সরকার ছাগলের মত আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসু্জ্জামান দুদু।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। 

দুদু বলেন, একটা ছাগলের ছবি শেয়ার করলে মন্ত্রীর বদনাম হয় এবং সাংবাদিকদের জেলে যেতে হয়, এটা কোন ধরনের সভ্যতা। তিনি বলেন, এতে বুঝা যায় সরকারই ছাগলের মতো আচরণ করছে। তিনি বলেন, এখন আপনারা ৫৭ ধারার বিষয়ে পুলিশকে দিয়ে পরিপত্র জারি করাচ্ছেন, উপরের নির্দেশ ছাড়া যেন মামলা নেয়া না হয়। আইন আছে ওসিতো মামলা নেবেই। আইনটা বাতিল করলেইতো হয়, তাহলেতো আর কেউ মামলা নিবেনা আপনাকেও জিজ্ঞাসাও করা লাগবেনা। 

বিএনপির এই নেতা বলেন, সাংবাদিকরা কি এতই বোধ বুদ্ধি জ্ঞানহীন যে তারা কোনটা লিখতে হবে আর কোনটা বলতে হবে এটা জানেন না। এ আইন করেছেন বলে আজ সাংবাদিকরা হয়রানি হচ্ছে। একইসাথে রাজনৈতিক লিডার এবং সুস্থ বিবেকবান মানুষদেরকে আপনার অপদস্থ করছেন। 

৫৭ ধারা বাতিল করতে হবে উল্লেখ করে দুদু বলেন, সাতান্ন ধারার সাথে সাথে এ সরকারেরও আমরা বাতিল চাই, এ সরকার যতদিন বাতিল না হবে, সুস্থ ধারার কোন কাজই করা সম্ভব হবে না।  

বগুড়ার ঘটনা উল্লেখ করে দুদু বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনার খারাপ লাগেনা? বগুড়ায় যখন মা-মেয়েকে নির্দয় নির্মমভাবে শুধু অপদস্ত নয়, ধর্ষণ নয়, তাদেরকে মাথা মুড়িয়ে ফেসবুকে ছবি দেয় আপনার নেতারা। এ ঘটনায় তাদেরকে আপনি বহিষ্কার করেছেন, তাতেই হয়ে গেল? এ ঘটনায়তো আপনার বহিষ্কার হওয়ার কথা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোথায় থাকে আপনার পুলিশ, কোথায় প্রশাসনের লোকজন। 

দুদু বলেন, আজও পত্রিকায় এসেছে, পিতা-মাতা ও কন্যাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। গাইবান্ধায় দুই বোনকে পানির মধ্যে ডুবিয়ে মারা হয়েছে। 

নির্বাচন প্রসঙ্গ তোলে দুদু বলেন, এখনও অনেক নেতৃবৃন্দের পাসপোর্ট আপনারা আটকিয়ে রেখেছেন, একটা পাসপোর্ট আপনারা ফেরত দিচ্ছেন না। আপনারা নির্বাচন পরিচালনা করে যে ক্ষমতা ছাড়বেন সেটা আমরা কিভাবে বিশ্বাস করবো। 

তিনি আওয়ামী লীগকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন একসঙ্গে বসি, পরিস্থিতি মূল্যায়ন করি। আলোচনার মধ্যদিয়ে একটা মিমাংসার পথ খুঁজি। আর তা যদি না হয় একাত্তর, উনসত্তর, নব্বইয়ের মত রাস্তাতেই আমরা মিমাংসা করবো।  

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ নামে বিএনপি সমর্থীত একটি সংগঠন। 

মো. রাসেল খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুল সালাম, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, এনডিপির মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমুখ।

এমএনজে