বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামী ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছে মহানগর বিএনপি।
আজ (শুক্রবার) বেলা ১১টায় নগর বিএনপির কার্যালয় নসিমন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে বিএনপি নেতারা এ ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।
আবুল হাশেম বক্কর বলেন, “সরকার সম্পূর্ণ প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করছে। আমরা আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যাবো। বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামী ১৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) লালদীঘি ময়দানে চট্টগ্রাম বিএনপির উদ্যোগে জনসভা করা হবে। আমরা আশা করছি প্রশাসন জনসমাবেশের অনুমতি দিয়ে সহযোগিতা করবে।”
নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “গত ৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি’সহ ১৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা দু’টি মিথ্যা মামলায় উচ্চ আদালত জামিন দেন। কিন্তু ডা. শাহাদাত হোসেনের জামিন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে পুলিশ নতুন করে ফেনীতে বেগম জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মিথ্যা একটি মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দেখিয়েছে। আমরা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ান, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সাবেক সহ-সভাপতি ও চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এম এ আজিজ, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আনোয়ার হোসেন লিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সহ-দফতর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকার বকশিবাজার আলীয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এবং তারেক রহমান’সহ বাকি ৫ আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড’সহ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে আদালত।
খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। রায়ে তারেক রহমান, শরফুদ্দীন আহমেদ ও মমিনুর রহমানকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
রায়ের দিন আদালত ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়া হয়। রায়ের অনুলিপি ১ হাজার ১৭৪ পৃষ্ঠার। রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। নির্জন কারাগারের একমাত্র বন্দি হিসেবে বেগম জিয়া সেখানেই আছেন।
মাসুম/এমবি





