মাদকবিরোধী যুদ্ধের আড়ালে মানুষ হত্যা করে সরকার টিকে থাকতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ‘সরকারের আশকারাতেই বন্দুকযুদ্ধের নামে দেশব্যাপী মানুষ হত্যার বিভীষিকা চলছে। এই বেআইনি হত্যার জন্য সরকারই দায়ী।’
তিনি বলেন, ‘আসন্ন আন্দোলন সম্পর্কে ভীত হয়েই মানুষ হত্যায় লিপ্ত হয়েছে সরকার। জনমনে ভয় ধরিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড মূলত ঈদ পরবর্তী আন্দোলন দমনে একটি টেস্ট কেস।’
এ ধরনের মহৎ অভিযানে দু’একটি ভুল হতেই পারে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘মানুষের জীবন নিয়ে ভুল! তার এই বক্তব্য মানবাধিকারের সঙ্গে ঠাট্টা করা। ড্রাগ চেইনের লিংক হিসেবে চুরি চোট্টামি করা ছিঁচকে আর প্রমাণহীন কিছু অজ্ঞাত মানুষের বিরুদ্ধে হত্যা অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু, এই চেইনের শীর্ষে থাকা অমিত ক্ষমতাধর গডফাদাররা এখনো বসে আছে।’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘মাদক সরবরাহের উৎস পথ আটকানো হচ্ছে না কেন? তাহলে কারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদক ঢুকতে সহায়তা করছে? রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কি উৎসমুখ খোলা থাকে? এর একটিই কারণ, এই উৎসমুখগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন বদির মতো এমপিরা, প্রশাসনের সহায়তায়।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বদিসহ ক্ষমতাসীনদের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কিভাবে এতগুলো গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশ ছেড়ে গেল, জাতি জানতে চায়। সরকারই গডফাদারদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করছে না তো, এমন প্রশ্নও কিন্তু উঠছে?’
তিনি বলেন, ‘বেআইনি হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে সরকার তার টিকে থাকার সমাধান খুঁজছে। সরকার বাংলাদেশে একটি এতিম জেনারেশন তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু, তারা ভুলে গেছে অন্যায়ের প্রতিশোধ প্রকৃতি নিজেই নেয়।’
রিজভী জানান, এখন পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কমপক্ষে ১৩০ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সবমিলে গত চার মাসে ২৫০ জন মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তিনি দাবি করেন, মাদকের বিস্তার ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ, তাদের সহায়তাকারী হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ফেনসিডিল ও মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আমদানিকে মদদ দিয়ে সরকার যুবসমাজকে ধ্বংস করে ফেলেছে। আর এখন কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে এডহক ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরেক দফা উস্কে দিচ্ছেন ওবায়দুল কাদেররা।





