শিশু হত্যা ও নারী নির্যাতনের জন্য কতজনকে গ্রেফতার ও কতজনকে ফাাঁসি দেয়া হয়েছে সরকারের কাছে জানতে চেয়ে বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, শিশু হত্যার বিচার ফাাঁসি ছাড়া আর কিছু নয়।

তিনি শিশু হত্যা ও নারী নির্যাতনের বিচারের জন্য দ্রুত বিচার সম্পন্ন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও দাবি জানান। একই সঙ্গে সেই বিচার ৬ মাসের মধ্যে শেষ করতে ও ৯ মাসের মধ্যে সাজা ভোগ নিশ্চিতেওরও দাবি জানান সরকারের প্রতি।
রোববার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের ট্রপিকানা টাওয়ারে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় দেয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব দাবি জানান।

এতে সভাপতিত্ব করেন মুসলিম লীগের সভাপতি নুরুল হক মজুমদার।
সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, শিশু হত্যায় পুলিশের ব্যর্থতা আর সহ্য করা হবে না। শিশু ও নারীদের রক্ষায় পুলিশ ব্যর্থ হচ্ছে। তাই শিশুদের রক্ষায় বিশেষ ফোর্স গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, দেশে এখন কেউ নিরাপদ নয়। আজকে মায়ের পেটেও শিশু নিরাপদ নয়।

দেশে এখন স্বাধীন রাজনীতিও নেই দাবি করে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুনাখুনি, অরাজকতার বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করবো, জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করব, রাজপথে মিছিল করব; তাও করা যায় না। গুলি করে মারা হয়।

বর্তমান সরকারের ভিত্তিই গণতান্ত্রিক নয় মন্তব্য করে অধ্যাপক বি চৌধুরী বলেন, তারা ক্ষমতায় আসার আগে জনগনকে যেসব কথা দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কথা দিয়ে না রাখার কারণে তারা জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা বারবার বলেছিল, এটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। এতে দলটির সভানেত্রীরও সম্মতি ছিল। এখন তারা বলছে ২০১৯ সালে নির্বাচন হবে।
বি চৌধুরী বলেন, এখন রাজনীতি করা হয় ক্ষমতা ও অর্থ উপার্জনের জন্য। অর্থ উপার্জনের জন্য অনেক পথ আছে। ব্যবসা আছে। চাকরি আছে। অন্য উপায় আছে। শুধু অর্থ কামাইয়ের জন্য রাজনীতি করবেন, তা হবে না।

ডা. বি চৌধুরী বলেন, আজকে অন্যকে কেউ শ্রদ্ধা করলে কেউ ছোট হয়না। শ্রদ্ধা করতে হবে। একদল আরেক দলকে ঘৃণা করবে, গালাগালি করবে; বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটাই চলে আসছে। শুধু খাওয়ার লোভে রাজনীতি। কিন্তু শ্রদ্ধার রাজনীতি করতে হবে। ভবিষ্যতে তাই হবে। সেটা খুব দূরে নয়।

বিকল্পধারার সভাপতি আরও বলেন, মুসলিম লীগ একটি বাস্তবতা, রিয়েলিটি। এতে কোনো সন্দেহ নেই। আজকে অনেক বড় দল ও বড় বড় নেতা আছেন। তাদের জীবনে মুসলিম লীগ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। অনেকের রাজনৈতিক জীবনই শুরু হয়েছে মুসলিম লীগে। উপমহাদেশের অনগ্রসর মুসলমানদের অগ্রগতি ও উন্নতির জন্য মুসলিম লীগ রাজনীতি করেছে। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্য উপমহাদেশে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করেন।

অন্যান্য বক্তার নতুন জোট গঠনের দাবির বিষয়ে বি চৌধুরী বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে থাকুন। ভবিষ্যতে দেখা যাবে।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল হক মজুমদারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, মুসলিম লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আব্দুল মুত্তালিব আখন্দ, মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের প্রমুখ।

এমএইচ