ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আগামী ৭ জুন দুই নেতার মধ্যে এ বৈঠকটি রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
আজ-কালের মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র উইং থেকে বিএনপিকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী এসব তথ্য জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ৬ জুন পর ৩৬ঘণ্টার রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সফরের শেষ দিন ৭ জুন দিনের কোনও এক সময় হোটেল সোনারগাঁওয়ে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করবেন খালেদা জিয়া।
সূত্রমতে, খুব স্বল্প সময় মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন খালেদা জিয়া। এক্ষেত্রে মোদির সঙ্গে আলোচ্য বিষয় নিয়ে কাজ করছে বিএনপির পররাষ্ট্র উইং। ইতোমধ্যে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন পররাষ্ট্র উইংয়ের অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত, দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খালেদা-মোদির এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে দলটি। তবে সরকার দুই নেতার এই সাক্ষাতকারে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেও আশঙ্কা করেছে বিএনপি।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিজেপির অটল বিহারী বাজপেয়ী অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছিলেন। বিজেপির সাথে বিএনপির বিভিন্ন দিকে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই বাধা এলেও বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ দেবেন।
এরই মধ্যে মোদির সঙ্গে বৈঠকে কী কী বিষয় তুলে ধরা হবে তা চূড়ান্ত করতে কাজ করছে বিএনপি হাইকমান্ড। মোদি-খালেদা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ঝালাই হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও তার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের ব্যাপারে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে কয়েক কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। চেয়ারপারসনের নির্দেশে তারা মোদি সরকারের নীতিনির্ধারক নেতা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন তারা।
দলীয় সূত্র জানায়, ৭ জুন যেকোন সময় এ বৈঠক হবে। তবে অনুষ্ঠানাদির উপর নির্ভর করে বৈঠকের সময়ের হেরফের হতে পারে। সফরের প্রথম দিন সরকারি বিভিন্ন বৈঠক সাক্ষাতকারে ব্যস্ত থাকবেন বলে জানা গেছে। সব ঠিক থাকলে দ্বিতীয় দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির তরফ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি বিএনপির ওই সূত্র।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুবুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সঙ্গে বিজেপির নিবিড় সম্পর্ক আছে। সেটা অটল বিহারী বাজপেয়ীর শাসনামলেই উদাহরণ মিলেছে। বিজেপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ দিয়েছেন এমনকি ১২ মিনিট একান্তে বৈঠকও করেছেন।
তিনি জানান, রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, বিরোধী মতকে সহ্য না করে উল্টো সরকারের নিপীড়ন-দমন নীতি, নেতাকর্মীদের গুম, অপহরণের বিষয়গুলো মোদির সাথে শেয়ার করা হতে পারে বলে জানান এই নেতা। বাংলাদেশের গণতন্ত্র উদ্ধারে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে সহযোগিতা চাওয়া হতেই পারে।
এমএইচ





