বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসিদণ্ড কার্যকর কারার প্রতিবাদে (২৩ নভেম্বর) সোমবার সারাদেশে সকাল সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে দলটি। এছাড়া রোববার সারাদেশে গয়েবানা জানাজা করারও ঘোষণা দেওয়া হয়।

শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫মিনিটে জামায়াত নেতা মুজাহিদের ফাঁসিদণ্ড কার্যকর হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত আমীর জনাব মকবুল আহমাদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি দেন।

বিবৃতিতে বলেন, “জনাব আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ বাংলাদেশের জনগণের নিকট প্রিয় একটি নাম। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতি চালুর ক্ষেত্রে তার অবদান অবিস্মরণীয়।

চারদলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে তিনি যে দক্ষতা ও সততার পরিচয় দিয়েছেন তা বাংলাদেশের জনগণ কখনো ভুলবে না। তিনি ইসলামী আন্দোলনের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের নিকট ইসলামের সুমহান আদর্শের দাওয়াত পৌঁছিয়ে দেয়ার জন্য রাতদিন পরিশ্রম করেছেন।

মকবুল আহম্মেদ বলেন, জনাব মুজাহিদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। তাকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। আমি সরকারের এহেন নোংরা রাজনীতির তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।

মুজাহিদের প্রাণভীক্ষার কথা উল্লেখ্য করে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর জানান, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে জনাব মুজাহিদের সাথে যে তামাশা করা হয়েছে এবং মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন বলে যে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে তাতে দেশবাসী ক্ষুব্ধ। জনাব মুজাহিদের সাথে তার পরিবারের সদস্যরা শেষ সাক্ষাত করে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট দোষ স্বীকার করেননি, ক্ষমা প্রার্থনা করেননি এবং প্রাণভিক্ষাও চাননি।

হরতাল সফল করতে দেশবাসির প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, হরতাল চলাকালিন সময় হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট গাড়ি এবং ঔষধের দোকান হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।

এআই