সরকার উৎখাত করতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শোকজ নোটিশের জবাবের পর আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এ বৈঠক ডাকা হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। তিনি সরকার উৎখাত করবেন। আমাদের উৎখাত করতে গিয়ে তার পায়ের তলায় মাটি সরে যাচ্ছে। সেটা কি তিনি দেখতে পাচ্ছেন না? দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা অতীতে আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ খুন, ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে রাখুন। ভবিষ্যতে যাতে তারা আর নৈরাজ্য করতে না পারে। কেউ নৈরাজ্য করলে তাদের সরকার ছেড়ে দিবে না। কেউ জনগণের ক্ষতি করতে চাইলে তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আমরা জনগণের পাশে আছি।

দেশের মানুষ ভালো থাকলে খালেদা জিয়ার ভালো লাগে না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ ভালোভাবে ঈদ-পূজা পালন করেছে। দেশ শিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে, খাদ্যে স্বয়ংসর্ম্পূণ হয়েছে, সরকার বিনামূল্যে ঔষধ দিচ্ছে, মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে। দেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা আর্ন্তজাতিকভাবে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নিয়েছি। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সিপিএ এবং আইপিইউর প্রধান পদে বিজয় লাভ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছি। এর আগে একসঙ্গে দুটি পদে কোনো দেশ বিজয় লাভ করেনি। আমি আবারো বলবো, এতে আমাদের গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমি জানি এ বিষয়ে সারা দেশের মানুষ আনন্দিত হয়েছে। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলো, যারা অবৈধ সরকারের উচ্ছিষ্টভোগী তারা গণতন্ত্রের এ বিজয়ে খুশি হতে পারেনি।

দেশের উন্নয়ন চিত্র তুলে শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যহত থাকার ফলে আমরা ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছি। বাজেট তিনগুণ বাড়িয়েছি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করেছি। এখন ৬৪ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। আগামীতে যে সময় আছে তাতে আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পারবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নয়ন করতে পারে আমরা সে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছি। ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রা আমরা নির্ধারণ করেছি। আমাদের মাথাপিছু আয় ১১৯০ ডলার। আমরা তো প্রায় মধ্যম আয়ের দেশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আওয়ামী লীগ মানুষকে শান্তি ও সমৃদ্ধি দেয়। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি, লুটপাট করে। তারা ক্ষমতায় এলে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে। কিন্তু তারা মানুষকে কিছুই দিতে পারে না-যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নিম্নবিত্তরা মধ্যবিত্তের পর্যায়ের চলে আসছে। এখন মধ্যবিত্তরা ধনিক শ্রেণীতে পরিণত হচ্ছে। চোখের সামনে কতজনকে দেখলাম। খালেদা জিয়া কোথায় পেলেন যে- মধ্যবিত্তরা নিম্নবিত্ত হচ্ছে। আর নিম্নবিত্তরা নিস্ব হয়ে যাচ্ছে! তিনি তার নিজের দিকটা দেখুন না। খালেদা জিয়ার শাড়ি, গহনা, ঘরের আসবাব পত্রের দাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার একেকটা শাড়ির দাম কয়েক লাখ টাকা। তার বাড়ি পরিবর্তনের সময় দেখেছি তার বাড়ির ঝাড়বাতি, ইটালিয়ান কার্পেট, আসবাবপত্র। তিনি তিন চার লাখ টাকা দামের ফ্রেন্স শিপন শাড়ি পরেন। গহনাঘাটির কথা কী বলবো। মহিলা মানুষ গহনাঘাটি তো পরবেনই। মিলিয়ন ডলার দামের গহনাঘাটি পরেন। তিনি এগুলো কোথা থেকে পেলেন। জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার সময় ভাঙা সুটকেস রেখে গিয়েছিলেন। তার ভাঙা সুটকেস নিশ্চয়ই যাদুর বাক্স হয়ে গিয়েছিলো। নইলে তিনি চুরি করে পেয়েছেন।

চুরি করেছেন বলেই ভয়ে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হতে ভয় পান মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আদালতে গেলে প্রমাণ হয়ে যাবে। এতিমের টাকা চুরি করেছেন বলেই তিনি ভয় পান। ভয় পান বলেই তিনি মামলা থেকে পালানোর পথ খোঁজেন, হরতাল দেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে দলটির কার্যনির্বাহী সংসদের প্রায় সকল সদস্যই উপস্থিত ছিলেন।

জেআই