চট্টগ্রামের ১০ পৌরসভায় সকাল ৯টার মধ্যেই সরকারদলীয় প্রার্থীরা ভোটকেন্দ্র দখল করে ভোট ছিনতাই করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বিভাগীয় নির্বাচন মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন।
রাঙ্গুনিয়া ও সন্দ্বীপে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন এমন খবর প্রচার হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলামেইলকে তিনি একথা বলেন।
মীর নাছির বলেন, ‘ভোট বর্জনের বাকি আর কী আছে। এটার দরকার নেই। সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা তো সকাল ৯টার মধ্যে সব কেন্দ্র নিজেদের দখলে নিয়েছে। সীতাকুণ্ডে আমাদের প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। রাউজান, চন্দনাইশ. সাতকানিয়া, মিরসরাইয়, বারৈয়ারহাট, সন্দ্বীপসহ চট্টগ্রামের সব উপজেলায় একই অবস্থা। ভোটের আগেই তারা জিতে গেছে। ভোট ছিনিয়ে নিয়ে তারা বিজয় নিশ্চিত করে ফেলেছে। এসব প্রহসনের নির্বাচনের কী দরকার ছিল?’
এদিকে ভোটগ্রহণের আগেই ব্যালটে সিল মারার অভিযোগে চন্দনাইশে দুটি এবং গোলযোগ বাধায় একটি কেন্দ্রসহ মোট তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রামের যে ১০ পৌরসভায় নির্বাচন হচ্ছে সেগুলো হলো পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, মিরসরাই, বারৈয়ারহাট, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, রাউজান এবং রাঙ্গুনিয়া।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১০ পৌরসভায় ভোটার রয়েছেন দুই লাখ ৬১ হাজার ৫৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৩৪ হাজার ৮৮৮ জন ও মহিলা ভোটার এক লাখ ২৬ হাজার ৬৮৭ জন। ভোট কেন্দ্র ১৩৩টি। ভোটকক্ষ ৭৯১টি। অস্থায়ী ভোট কেন্দ্র দুটি ও অস্থায়ী ভোটকক্ষ ৪৩টি। এরমধ্যে ১১৯টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, পৌর নির্বাচনে মাঠে রয়েছেন ৪৫১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে মেয়র পদে ৩৪ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৭ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৪০ জন। মেয়র পদে ৩৪ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১০ জন ও বিএনপি সমর্থিত নয়জন প্রার্থী রয়েছেন। চন্দনাইশে মেয়র পদে বিএনপির শরিকদল এলডিপিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
বাঁশখালীতে মেয়র পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের সেলিমুল হক চৌধুরী (নৌকা) ও বিএনপি সমর্থিত কামরুল ইসলাম হোসাইনী (ধানের শীষ)। সন্দ্বীপে আওয়ামী লীগের জাফরুল্লাহ টিটু (নৌকা) ও আজমত উল্লাহ বাহাদুর (ধানের শীষ)।
বারৈয়ারহাটে আওয়ামী লীগের নিজাম উদ্দিন (নৌকা) ও মঈন উদ্দিন লিটন (ধানের শীষ)। রাউজানে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মনোনীত প্রার্থী দেবাশীষ পালিত (নৌকা), বিএনপির কাজী আবদুল্লাহ আল হাছান (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা (জগ) ও মীর মোহাম্মদ মনসুর আলম (মোবাইল)।
রাঙ্গুনিয়া আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. শাহজাহান সিকদার (নৌকা), বিএনপির মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন খান (ধানের শীষ), ইসলামী ফ্রন্টের আবদুর রহামান জামি (মোমবাতি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোজাম্মেল হক (নারিকেল গাছ)।
মিরসরাইয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন (নৌকা), বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এ জেড এম রফিকুল ইসলাম পারভেজ (ধানের শীষ) ও ইসলামী আন্দোলনের আরিফ মাঈন উদ্দিন (হাতপাখা)।
সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বদিউল আলম (নৌকা) ও বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আবুল মনসুর (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র নায়েক (অব.) শফিউল আলম (নারিকেল গাছ), সিরাজ-উদ-দৌলা (জগ), জাপা প্রার্থী মো. নুরুন নবী চৌধুরী (লাঙল) ও তাওহিদুল হক চৌধুরী (মোবাইল)।
সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জোবায়ের (নৌকা), বিএনপির হাজি রফিকুল আলম (ধানের শীষ) ও জাতীয় পার্টির মো. ইউসুফ চৌধুরী (লাঙল)। চন্দনাইশে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মাহবুবুল আলম খোকা (নৌকা), এলডিপি সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. আইয়ুব (ছাতা), ইসলামী ফ্রন্টের মো. আবদুল হাকিম (মোমবাতি), স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ (জগ)।
পটিয়ায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ (নৌকা), বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৌহিদুল আলম (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী সাবেক মেয়র শামসুল আলম মাস্টার (লাঙল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইব্রাহিম (নারিকেল গাছ)।
এমএ





