চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য দুইমাসেরও বেশি সময় লন্ডনে অবস্থান শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শনিবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে শাহজালাল বিমান বন্দরে পৌছেঁছেন।
বিএনপি সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৪টা ১০মিনিট) এমিরাটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি।
লন্ডন বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে বিদায় জানান তার বড় ছেলে তারেক রহমান, ছেলের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, তার তিন নাতনি, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদসহ অন্য নেতা-কর্মীরা।
বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন জানান, ‘লন্ডনে বিএনপি নেত্রী চোখের চিকিৎসা নিচ্ছেলেন। কিন্তু তার চিকিৎসা শেষ না হওয়া স্বত্ত্বেও দেশের ক্রান্তিকাল এবং রাজনৈতিক সংকট বিবেচনায় ফিরে আসছেন।’
এদিকে বর্তমানে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দাবি করে এ অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। বিএনপি নেত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ‘অপ্রতুল’ দাবি করে তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদারে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুক্রবার আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শনিবার লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন। কিন্তু দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের দল উদ্বিগ্ন।’
অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর বিএনপি প্রধান দেশে ফেরায় তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুতি নিয়েছে দলটির নেতা-কর্মীরা। তাকে অভ্যর্থনা জানাতে শৃঙ্খলাতার সঙ্গে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে নেতা-কর্মীদের প্রতি এরই মধ্যে দলের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লন্ডন যান বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমান ও ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারের সঙ্গে ঈদ করেন তিনি। প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তার চোখ ও পায়ের চিকিৎসা হয়।
২০০৬ সালে ক্ষমতা হারানোর পর যুক্তরাজ্যে এটি ছিলো খালেদার দ্বিতীয় সফর। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে দেশে ফেরার পথে বড় ছেলে তারেককে দেখতে লন্ডনে গিয়েছিলেন তিনি।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় (২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা) হুলিয়া নিয়ে গত সাত বছর ধরে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে লন্ডনে রয়েছেন।
এমকে





