অবশেষে তৃণমুল নেতাদের প্রত্যক্ষ ভোটের ওপরই আস্থা রাখতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। আর এ জন্য কাউন্সিলের মাধ্যমেই গঠন করা হবে ঢাকা মহানগর বিএনপির আগামী দিনের নেতৃত্ব। এর মধ্য দিয়েই সরকার বিরোধী আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান তিনি।
সারা দেশে বিএনপির ৭৮টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটটির কমিটি গঠন নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনা ছিল। অবশেষে অনেক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বেগম খালেদা জিয়া আবারো গণতান্ত্রিক উপায়কেই বেছে নিয়েছেন।
সোমবার রাতে ঢাকা মহানগর কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যে এমন আভাসই পাওয়া গেছে। বৈঠকে তিনি ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন প্রতিহত করতে সারা দেশের ন্যায় ঢাকা মহানগরীতে আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারার মূল কারণও জানতে চান।
নেতাদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেছেন- ‘আমি জানি আন্দোলনে কে কে সফল আর কে কে ব্যর্থ। তাই পদবীতে কে আগে আর কে পরে এ ধরনের মানসিকতা পরিহার করতে হবে।’ এজন্য কিভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করা যায় সে ব্যাপারে উদ্যমী হওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও সরকারের পতন ঘটাতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সকল দ্বন্দ্ব ভুলে সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া।
বৈঠক শেষে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের জানান- সাংগঠনিক বিষয়ে অনেক খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি ঢাকা মহানগর বিএনপির সামগ্রিক মূল্যায়ন করছেন। নেতাদের মতামত শুনে সেই আলোকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়েও কথা হয়েছে। সমস্যা ও এর কারণ নিয়েও তিনি আমাদের বক্তব্য শুনেছেন।
নতুন কমিটি কবে গঠিত হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে সালাম বলেন, এটি ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যখন ইচ্ছা করবেন তখনই হবে। তবে আজকে তিনি বলেছেন, আগামী ২/৩দিনের মধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। ওই বিশেষ কমিটির মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ড এবং থানায় সম্মেলন করে নতুন কমিটি গঠন করবে। এরপর কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠন করা হবে ঢাকা মহানগরীর পূর্ণাঙ্গ কমিটি।
তবে সেই বিশেষ কমিটিতে কারা থাকছেন সেই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না। সেটি নির্ভর করবে দলের চেয়ারপারসনের ওপর। তিনি যাকে আস্থাভাজন মনে করবেন তাকেই সেই দায়িত্ব দিতে পারেন।
বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র মতে বিশেষ কমিটির প্রধান থাকবেন সদ্য কারামুক্ত স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য। যিনি গত ৯ম সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরীর একটি আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। এই বিশেষ কমিটির সদস্য সংখ্যা হতে পারে সর্বোচ্চ ১১ হতে ৩১ জনের মধ্যে।
এদিকে দলের অপর একটি সুত্রের দাবী বর্তমান কমিটি বহাল রেখেই আগামী এক মাসের মধ্যে প্রথমে নগরীর ১০০ ওয়ার্ডে কমিটি পুনর্গঠন করা হতে পারে। এরপর একইভাবে প্রতিটি থানা কমিটি গঠন করা হতে পারে। এরপর ওয়ার্ড ও থানা কমিটির কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটেই মহানগরীর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। তবে সেই কাজ মনিটরিং করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি থাকতে পারে।
[b]ঢাকা, এমএইচ, ১১ ফেব্রুয়ারি (টাইম নিউজবিডি.কম) // কে বি [/b]