আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না বলে বিএনপি নেতারা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা 'আইওয়াশ' মাত্র।

কারণ তারাও জানেন, আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নয়। নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন যেন স্বাধীন, কর্তৃত্বপূর্ণভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন সে ব্যাপারে সহায়তা করা। সরকার সে সময়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেবে না। কেবল রুটিন দায়িত্ব পালন করবে।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করায় এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা জানান। জাতীয় প্রেস ক্লাব এ আলোচনার আয়োজন করে। 

এতে সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাব সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান। আলোচক ছিলেন সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান। 

ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকালে নির্বাচনের সংঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যাবে। ডিসি-এসপি, আইনশৃংখলা বাহিনী তখন সরাসরি ইসির অধীনে কাজ করবে। সেনাবাহিনীর কথা ভিন্ন, তারা নিরাপত্তা বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়। 

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাব না বলে বিএনপি নেতারা সাধারণ সৌজন্যবোধের পরিচয়টুকুও দেননি। জনগণের ওপরে এর বিচারের ভার দিলাম। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কোনও রাজনৈতিক দলের নয়, এটি বাঙালির সম্পদ, আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ ভাষণই স্বাধীনতার মূলমন্ত্র উজ্জীবিত করেছিল মুক্তিকামী জনতাকে।’

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এদেশে ঐতিহাসিক এ ভাষণ প্রচার করা নিষিদ্ধ ছিল। রেডিও-টেলিভিশনে প্রচার হতো না। মাইকে এ ভাষণ বাজানোর অপরাধে অনেককেই নিগৃহীত হতে হয়েছিল। বহু নেতাকর্মী এজন্য জেল খেটেছেন, পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে অনেককে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল বিশ্বের সংক্ষিপ্ত অলিখিত মহাকাব্য। এতে অন্ত্যমিল হয়তো ছিল না, ছিল অন্তঃসলিলা ছন্দ।

পৃথিবীর বড় বড় বক্তৃতাগুলোতে যে কোন একটি স্বপ্ন দেখানো হয়। বঙ্গবন্ধু এ বক্তৃতায় তার স্বপ্নের কথা বলেছিলেন এভাবে ‘এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।’ 

তিনি ৭ই মার্চে তার সেসময়কার কর্মস্থল দৈনিক সংবাদ এর অভিজ্ঞতাও বর্ণনা করেন। 

সমকাল সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণ একদিনে দেননি, এটি তার রাজনীতির ধারাবাহিকতা। ১৯৬৪ সালে এক বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, শেখ মুজিবকে ফাঁসি দেওয়া সম্ভব, তবে তার রক্তের প্রতিটি ফোঁটায় লক্ষ লক্ষ মুজিব জন্ম নেবে।

বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা দিয়েছেন, গ্রেফতার হয়েছেন, বের হয়ে আবারো বক্তৃতা করেছেন, ফের গ্রেফতার হয়েছেন। 

এ সময় গোলাম সারওয়ার সবাইকে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ার আহবান জানান। 

বিএসএমএমইউয়ের ভিসি প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ বঙ্গবন্ধু দেবার আগে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। গোটা জাতি সে সময়ে বঙ্গবন্ধুর দিক-নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছিল।

তার এ ভাষণ ছিল যেন একটি কমান্ড। সারা জাতি এ ভাষণ শুনে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি হয়ে গিয়েছিল এবং যুদ্ধ করেই দেশকে স্বাধীন করে এনেছিল। যুদ্ধের দিনগুলোতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয় বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠের এ ভাষণ। ফলে তার অনুপস্থিতি মুক্তিযোদ্ধারা অনুভব করেনি। 

সভাপতির ভাষণে প্রেস ক্লাব সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, বিগত আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসে ৭ মার্চের ভাষণ ছিল শ্রেষ্ঠ ভাষণ। যে মানুষ গরীব দুঃখি সাধারণ মানুষের আনন্দ-বেদনা, দুঃখ-কষ্ট, আশা আকাঙ্ক্ষা স্বপ্ন বুকে ধারণ করেন, কেবল তার পক্ষেই এমন একটি সার্বজনীন কালজয়ী ভাষণ দেওয়া সম্ভব। 

আলোচনা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, এটি ছিল একটি রাষ্ট্র নায়কোচিত ভাষণ। এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু যেন তারা সারাজীবনের রাজনীতিকেই তুলে ধরতে পেরেছিলেন। 

প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, মাত্র ১৭ মিনিটের এ ভাষণ বিশ্বের একটি নতুন দেশ, নতুন জাতি সৃষ্টি করেছিল। অথচ সামরিক শাসক ও কায়েমী স্বার্থবাদীরা এ ভাষণকে নিষিদ্ধ করেছিল।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে বক্তৃতা করেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার সাহা, সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদুজ্জামান ফারুক, আকরাম হোসেন খান, শফিকুল করিম সাবু, রফিকুল ইসলাম এবং নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু।

এমএ