তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ২ দিনব্যাপী ৩০ ঘন্টার লংমার্চ শেষ করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি।নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা থাকলেও শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে কর্মসূচিটি।
৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের পর এটাই বিএনপির বড় ধরনের কর্মসূচি,যদিও এর আগে রাজবাড়িতে সমাবেশ করেছিলেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে অনেক দিন পর বিএনপির কাছ থেকে জনসম্পৃক্ত একটি কর্মসূচি পেল জনগণ।
বিতর্কিত দশম জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদের বাইরে চলে যায় দেশের দীর্ঘ সময় শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা দিলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সবকিছু ম্যানেজ করে নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতায় আসে। এরপরই আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক রোষানলের শিকার হয় বিএনপি।দলটির নেতাকর্মীদের দাবি-প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিজেদের আনুকূল্যে ব্যবহার করে একতরফা নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে।
হামলা-মামলা আর নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর।এর বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে কোনো শক্ত প্রতিবাদ কর্মসূচিও দিতে পারেনি দলটি।সংবাদ ব্রিফিং আর প্রেসক্লাব কেন্দ্রীক কিছু ঘরোয়া আলোচনা সভার মধ্যেই বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।এই অবস্থায় দলটির নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে দরকার ছিল রাজপথের কোনো জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি।তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে লংমার্চ কী সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে? না হলে এই ৩০ ঘন্টার লংমার্চে বিএনপির অর্জনই বা কতটুকু?
লংমার্চের আগে দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছিলেন, জনস্বার্থে জাতীয় ইস্যুতে এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলের নেতা-কর্মীরা চাঙ্গা হবেন। পাশাপাশি পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে ভারতের ওপর চাপ প্রয়োগ করা যাবে এবং আগামী দিনের সরকারবিরোধী আন্দোলনে লংমার্চ প্রভাব ফেলবে।
লংমার্চে নেতৃত্ব দেয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অবশ্য দাবি করেছেন,জনগণকে তাদের অধিকার রক্ষায় সচেতন করতেই এই কর্মসুচি।তিনি আরও বলেন,বিএনপির লংমার্চের কারণেই তিস্তায় পানি প্রবাহ বেড়েছে।এটিকে প্রাথমিক বিজয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
লংমার্চে অংশ নেয়া বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য লে.জে.(অব.) মাহবুবুর রহমান টাইমনিউজবিডিকে বলেন,‘এটিকে রাজনৈতিক কর্মসুচি বলতে চাইনা।তবে এই কর্মসুচির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি কেবল ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না।মানুষের অধিকার রক্ষার জন্যও আন্দোলন করে।’
তিনি আরও বলেন,‘এই লংমার্চের ফলে উত্তরাঞ্চলে,বিশেষ করে  রাজশাহী ও রংপুরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএনপির প্রতি জনসমর্থন আরও বেড়েছে।’
লে.জে.(অব.)মাহবুবুর রহমান আরও বলেন,‘অচিরেই মানুষের ভোটাধিকার হরণকারী এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলনের শক্ত কর্মসুচি আসবে। সেই সময়ও জনগণ বিএনপির সঙ্গে থাকবে বলে আশা করেন দলের স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।’
লংমার্চে অংশ নেয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শামছুজ্জামান দুদু টাইমনিউজবিডিকে বলেন,‘বিএনপি একটি জনমূখী রাজনৈতিক দল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই কর্মসুচির মাধ্যমে সেটি আবারো প্রমাণিত হলো।কারণ এই মুহূর্তে দেশের প্রধান সমস্যা পানি।যার সঙ্গে ৩ কোটি মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন জড়িত।’
তিনি আরও বলেন,‘সেজন্য প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে পথসভাগুলোতে ও জনসভায় সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছে’।
শামছুজ্জামান দুদু সরকারের সমালোচনা করে আরও বলেন,‘বিগত ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগ তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।আর ৫ জানুয়ারির অবৈধ নির্বাচনের পরে এ নিয়ে তারা কোনো কথা উচ্চারণ করেনি।আর এখন তারা বলছে এটি তাদের সফলতা।’
তিনি বলেন,‘বাংলাদেশের মানুষ যেমন ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন চায়নি তেমনি পানি নিয়েও কারও করুনা চায় না।এদেশের জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমেই তাদের সব অধিকার ফিরে পাবে ।’
উল্লেখ্য,রাজধানীর উত্তরার আজমপুর থেকে ২২ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তিস্তা অভিমুখে লংমার্চটি শুরু হয়েছিল,যা বুধবার বিকাল ৩ টায় তিস্তা ব্যারেজের কাছে হাতিবান্ধা হেলিপ্যাডে এক সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
লংমার্চ চলাকালীন মোট ৭টি পথসভা ও একটি সমাবেশ করে বিএনপি।মঙ্গলবার গাজীপুরের কালিয়াকৈরে,টাঙ্গাইলের এলেঙ্গার বাইপাস মোড়ে,সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ে,বগুড়ার মাটিডালি মোড়ে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়িতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যটি পথসভাটি বুধবার সকালে রংপুর শহরের পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে অনুষ্ঠিত হয়।
[b]ঢাকা,এমএইচ, ২৩ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ [/b]