গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিজয়ের আশা দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, আমার বয়স অনেক হয়েছে। তারপরেও আমি খুব আশাবাদী মানুষ। আমি আরো আশাবাদী হয়েছি গত তিনদিন আমার জেলাতে (ঠাকুরগাঁও) আমি পাঁচটি উপজেলা সফর করেছি। আমি দেখেছি মানুষের মধ্যে কি অভূতপূর্ব সাড়া। মানুষ সব দাঁড়িয়ে আছে, নিজের শক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যখনই আন্দোলন শুরু হবে, যখনই সরকারকে পরাজিত করার যুদ্ধ শুরু হবে তখনই তারা ঝাঁপিয়ে পড়বে। এই নিশ্চয়তা আমি দেখেছি।
শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় নিজের জেলায় আন্দোলনের ব্যাপারে জনগনের ব্যাপক আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এই আশার কথা ব্যক্ত করেন। ২০১১ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ১০১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারির চাকুরিচ্যুতির দশ বছরপূর্তি দিবস উপলক্ষে ‘চাকুরিচ্যুতিদের মানবেতর জীবনযাপন’ শীর্ষক এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, আসুন সবাই মিলে একটা জনগণের ঐক্য সৃষ্টি করি। অতীতের যে আন্দোলন গুলোতে আমরা জয়লাভ করেছি সেই আন্দোলনগুলোর মতো একটা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি। এই হোক আজকে আমাদের শপথ।
তিনি বলেন, কখনোই ভেঙে পড়বেন না, সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে থেকে তো আমাদেরকে উঠে আসতে হবে। আমাকে জেগে উঠতে হবে, আমার আশে-পাশের মানুষগুলোকে জাগাতে হবে। আজকে যারা তরুন যুবক আছেন তাদেরকে জাগাতে হবে। এই যুদ্ধে জয়লাভ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই এবং সেটা অতিদ্রুত করতে হবে। যতদিন বিলম্ব হবে ততই বাংলাদেশের সব বিনষ্টের পথে যাবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, যারা আজকে এই ভয়াবহ একটা দানবীয় সরকারের মাধ্যমে আমাদেরকে নিষ্পেষন করছে, নির্যাতন করছে তাদেরকে যদি আমরা প্রতিরোধ করতে না পারি, তাদের যদি আমরা ব্যর্থ করে দিতে না পারি, তাদেরকে যদি পরাজিত করতে না পারি তাহলে এই অবস্থা কিন্তু চলতেই থাকবে। আমাদের কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। সেজন্য আজকে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ঐক্য গড়ে তোলা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের চাকুরিচ্যুতির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থদের প্রতি একাত্মতা ও সমমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানে আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব আছেন। এটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নয়, অন্যান্য দফতরগুলোসহ বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশকে ভালোবাসা মানুষগুলো চাকুরিচ্যুত হয়েছে। জনগনের মাধ্যমে বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব আবার ফিরে পায় তাহলে সন্মানের সাথে তাদের সমস্ত সমস্যা সমাধান করা হবে। এই বিষয়গুলো অবশ্যই আমাদেরকে আশান্বিত করে। আমরা বলতে চাই, আপনারা একা নন, আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবো এবং জয়ী হবো ইনশাল্লাহ।
ড. ফারুক আহমেদ শিপনের সভাপতিত্বে ও একেএম ওয়াহিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েম্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরিচ্যুতদের মধ্যে আতাউর রহমান, মজিবুর রহমান, আজিজুল হক, উর্মি রহমান, নুরুন্নাহার লাকী, ইয়াকুব মিয়া, আমির হোসেন, মিয়া হোসেন রানা, রবিউল ইসলাম রবি, আবদুল হালিম, আবু হানিফ খন্দকার, মামুনুর রহমান, আশরাফুল আলম, আকরাম হোসেন বক্তব্য রাখেন।
এমবি





