সম্প্রতি সময়ে দেশে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি হত্যাকান্ডে বিএনপিকে জড়িয়ে শাসকদলের দেওয়া বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, এক্ষেত্রে সরকারের অনিরপেক্ষ ভুমিকা প্রকৃত দোষীদের আড়াল করবে।

তিনি বলেন, ‘একটি দেশে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে খুন-খারাবি হতে পারে। কিন্তু এতে সরকার যদি নিরপক্ষে ভুমিকা পালন না করে, তাদের ওপর যদি অনাস্থা আসে; তাহলে তৃতীয় পক্ষ অর্থাৎ দোষীরা আড়ালে থেকে যায়।’

বুধবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে নারায়নগঞ্জ জেলা তাতী দল আয়োজিত এক সাংগঠনিক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকান্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার ২৪ ঘন্টার মধ্যে জড়িত দোষীদের গ্রেফতার নির্দেশ দিলেও আজ পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করা যায়নি। অপরাধীরা সরকারের মদদে আছে। তাদের গ্রেফতার করার সাহস প্রশাসনের নেই।

সরকার পরাজয়ের ভয়ে জনগণকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চায়না মন্তব্য করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের লড়াইয়ে জনগণ কখনো পরাজিত হয়না। কারন গণতন্ত্র কোনো ব্যক্তিগত জিনিস নয়, জনগনের। ব্যালটে রায় দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারনে এখন কোনো সংস্থার ওপরই জনগণের আস্থা নেই বলে মন্তব্য করেন আবদুল্লাহ আল নোমান।

সরকার বিএনপির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন দলটির এই ভাইস চেয়ারম্যান।

‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব যখন দল সুসংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, তখন সরকার তা করতে দিচ্ছেনা। সভা-সমাবেশ করার মতো সাংবিধানিক অধিকার করতে দিচ্ছেনা। পত্রিকায় দেখলাম, ঘরের ভেতর সভা করার সময়ে ভোলায় ১৮জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘরে সভা করা যাবেনা, মাঠে সমাবেশ করা যাবেনা...তাহলে করবো কী?’-প্রশ্ন করেন নোমান।

‘কারাগারে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার কথা বলছেন’-জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, গণতন্ত্র পুন:রুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিতে না পারলে জনগণ বিএনপির ওপর তাকিয়ে তাকবেনা। সময় হলেই তারা সামনে চলে আসবে। তখন হয়তো রাজনৈতিক দলগুলো পেছনে পড়ে যাবে।

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, মানুষ আওয়ামী লীগকে এখন নিখিল বাংলা লুটপাট সমিতি নামে বলছে। লুটপাট ও নির্যাতন করার বড় শক্তি হচ্ছে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া। যদি মানুষকে কথা বলতে না দেওয়া যায়, গুম-খুন করা যায়; তাহলে ধীরে ধীরে সাময়িকভাবে হলেও জনগণের কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে যায়। এর ফলে লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়। দেশে সাংবিধানিক সরকারের পরিবর্তে অনির্বাচিত সাংসদদের লুটপাট সরকারে রুপান্তরিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশে শুধু গণতন্ত্র নেই তা নয়, সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরন এবং নির্যাতনে সাধারণ মানুষও আজ অতিষ্ঠ। তারা সাধারণভাবে জীবনযাপনের নিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা চায়। কিন্তু দেশে সেই পরিস্থিতি নেই। খুন-গুম নিত্ত-নৈমত্তিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পরিণত হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা তাতী দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব মজিবুর রহমানের সভাপতিত্ব অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, তাতী বিষয়ক সম্পাদক এবং তাতী দলের সভাপতি হুমায়ুন ইসলাম খান, তাতী দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, নারায়নগঞ্জ জেলা তাতী দলের সাধারণ সম্পাদক মো. আকবুর হোসেন প্রমুখ।

এমএইচ