রাষ্ট্রের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বেআইনী উস্কানীমূলক ও আক্রমনাত্মক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
আজ ১২ ফেব্রুয়ারী’এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি জানান।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের আইন শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অব্যাহতভাবে বেআইনী উস্কানীমূলক ও আক্রমনাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন। খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মুনির-উজ-জামান গত ১১ ফেব্রুয়ারী রাতে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলা শহরে আয়োজিত এক সমাবেশে, সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীদেরকে কুলাঙ্গারের বাচ্চা বলে অশালীন ভাষায় গালী দিয়ে তাদের পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছেন।
একজন সরকারী পুলিশ কর্মকর্তার এই ভাষায় কথা বলা অত্যন্ত দু:খজনক ও দুর্ভাগ্যজনক। কোন পুলিশ কর্মকর্তা অশালীন ও বেআইনী ভাষায় আন্দোলনকারীদের গালী দিতে পারেন না। এটা কোন সরকারী কর্মকর্তার ভাষা হতে পারে না। মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করার কোন এখতিয়ার দেশের আইন ও সংবিধান তাকে প্রদান করেনি। তিনি সম্পূর্ণ বেআইনী ভাষায় কথা বলেছেন। এই জন্য তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
উল্লেখ্য যে, ঢাকার ডিআইজি এসএম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান গত ৭ ফেব্রুয়ারী গাজীপুরে এক পুলিশ সমাবেশে, ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে বলেছেন, ‘তাদের বংশধর পর্যন্ত ধ্বংস করে দিতে হবে, আমি হুকুম দিয়ে গেলাম দায় দায়িত্ব সব আমার।’
বগুড়ার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক গত ৭ ফেব্রুয়ারী এক সভায় ‘বগুড়া সদর উপজেলা যেভাবে পুরুষ শূন্য করা হয়েছে সেভাবে পুরো এলাকা নারী শূন্য করা হবে।’ মর্মে বক্তব্য দিয়েছেন। আজকে পুলিশ কর্মকর্তাগণ যে ভাষায় কথা বলছেন, হুমকি দিচ্ছেন, এগুলো কি কোন সরকারী কর্মকর্তার ভাষা হতে পারে? তারা সন্ত্রাসী ও দলীয় ক্যাডারদের ন্যায় অশালীন ভাষায় কথা বলছেন।
আমরা বার বার বোমা হামলাসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্তদের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সনাক্ত করে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদানের আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু আমাদের সেই আহ্বানকে অগ্রহ্য করে সরকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সন্ত্রাসী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করার অপপ্রায়াস চালাচ্ছেন।
আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের এ ধরণের বেআইনী, অসাংবিধানিক এবং অশালীন ভাষায় বিরোধী দলীয় জোটের নেতা কর্মীদের হুমকি দেওয়ার কোন এখতিয়ার নেই। তাদের কাজ হলো যদি কেউ বেআইনী কাজ করে তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।
দেশের মানুষকে গুলি করে হত্যা করা, বংশ ধ্বংস করে দেওয়া, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করার ঘোষণা দেয়ার কোন এখতিয়ার দেশের আইন ও সংবিধান তাদের দেয়নি। তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা। দেশের জনগণের সেবকের ভাষা এমন হতে পারেনা।
দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করে অন্যায়, বেআইনী ও অসাংবিধানিক ভাষায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গালী দেওয়া এবং হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থেকে দেশের আইন ও সংবিধান মোতাবেক পেশাগত দায়িত্ব পালন করার জন্য আমি তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
এসএইচ





