শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রমজীবী মানুষকে ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ইসলামই শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রদানে বদ্ধপরিকর। শ্রমিকের ঘাম শুকাবার আগেই তার মজুরি দেয়ার নির্দেশের আলোকে রাসুল সা. প্রণীত শাশ্বত শ্রমনীতি শ্রমজীবী সমাজের অধিকার নিশ্চিত করার বাস্তবমূখী প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, দেশে শতাব্দীর ভয়াবহ রানা প্লাজা ধ্বসে এগার শতাধিক শ্রমিক নিহত ও হাজার হাজার শ্রমিক আহত ও পঙ্গু হওয়ার ঘটনা, তাজরীন গার্মেন্টস এ অগ্নিকান্ডে শতশত শ্রমিক নিহতসহ প্রতিবছরই বিভিন্ন গার্মেন্টস ও কারখানায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় দায়ী মালিকদের বিচার হয়নি। ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকরা তাদের ক্ষতিপূরণও পুরোপুরি পায়নি। এটা সরকারের চরম ব্যর্থতা। সরকার নিজেদের স্বার্থরক্ষায় ব্যবসায়ীদের ব্যবহার করার কারণে মালিকপক্ষ বারবার শ্রমিকদের অধিকার বঞ্চিত করলেও সরকার নিশ্চুপ থাকে। এভাবে শ্রমিকের অধিকার কেড়ে নিয়ে, তাদের হত্যা করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।
দেশে ইসলামী সমাজব্যবস্থা চালু হলেই মালিক-শ্রমিক ব্যবধান দূর হবে এবং শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার ভোগ করতে পারবে।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আজ থেকে ১২৯ বছর আগে আমেরিকার শিকাগো শহরে শ্রমজীবী মানুষেরা যে অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন দিয়েছিলেন তা আজও সুদূর পরাহত। তৃতীয় বিশ্ব এমনকি উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতেও এখনো ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি শ্রমিক সমাজ।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর গার্মেন্টস শিল্পে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার কাগজে কলমে থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এর সুযোগ নিয়ে মালিকরা তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অসহায় শ্রমিকদের জোর করে কাজে খাটালেও তাদের প্রকৃত মজুরি দেয়া হয় না। গার্মেন্টস মালিকদের যেসব সংগঠন দেশে রয়েছে সেগুলোর অধিকাংশই কেবল মালিকদের পক্ষেই কাজ করে।
এজন্য শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ, নায্য মজুরি নির্ধারণ, শ্রমঘন্টা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন এবং মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা।
কেএইচ





