আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে গঙ্গার পানি কাবেরী নদীতে নিয়ে যাবার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের।  ইতোমধ্যে ভারত ফারাক্কার উজানে কানপুর, কাশি, হরিদ্বার ও পাটনায় ছোট-বড় বহু ড্যাম, পানিবিদ্যূৎ কেন্দ্র, জলাধার নির্মাণ ও শত শত মাইল খাল খননের মাধ্যমে গঙ্গার পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে অবরুদ্ধ করে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে উষর-ধূষর প্রাণহীন করে চলেছে।  

বৃহস্পতিবার ((২৬ মে) বিকেলে নেজামে ইসলাম পার্টির এক সমাবেশে বক্তাদের কণ্ঠে এসব কথা উঠে আসে। 

সমাবেশে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ আবদুল লতিফ নেজামী এই আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভারতের  অনমনীয় মনোভাবের কারণে তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি না হওয়ায় তিস্তা নদী আজ মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মূখীন হয়েছে।  একইভাবে ভারত টিপাইমূখ বাঁধের মাধ্যমে মেঘনা অববাহিকার সবুজ আচ্ছাদনও ধ্বংস করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত। 

তিনি বলেন, ভারতের এসব কার্যকলাপের ফলে পানির অভাবে বাংলাদেশের হাওর, বিল, নীচু জলাভূমী শুকিয়ে যাবে। এ কারণে কৃষি, মাছ, খাবার পানি, নৌ চলাচল ইত্যাদি দারুণভাবে ক্ষুন্ন হওয়া শুরু হয়েছে, জীব-বৈচিত্র ধ্বংস হয়ে যাবে এবং পরিবেশ তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে।

ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রশিদ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সাপ্তাহিক সমাবেশে পানির ব্যাপারে ভারতের বৈরি আচরণের চিত্র তুলে ধরা হয়।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রখেন সহসভাপতি অধ্যাপক এহতেশাম সারোওয়ার, যুগ্ম-মহাসচিব উপাধ্যক্ষ মাওলানা শেখ লোকমান হোসেন ও মুফতি এএনএম জিয়াউল হক মজুমদার, সহকারী মহাসচিব আলহাজ্ব ওবায়দুল হক ও রবিউল আলম মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হক, প্রচার সম্পাদক মাওলানা মমিনুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ মোঃ  আহসান, হাফেজ মাওলানা আবদুল বাতেন, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, ইসলামী ছাত্র সমাজের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ ও মহাসচিব মাওলানা নুরুজ্জামান ও মোঃ মণির হোসেন   প্রমূখ।

আব্দুল লতিফ নেজামী পদ্মা ও তিস্তায় পানি সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও বলেন, ভারত এক একটি করে পানি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলায় বাংলাদেশে পানি সমস্যার উদ্ভব হয়েছে।  অথচ আন্তর্জাতিক আইন মোতাবেক কোনো দেশ অভিন্ন নদীর উজানে কোনো কাঠামো নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই এর ভাটিতে বসবাসকারী জনপদের ওপর বিরুপ প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবতে বাধ্য।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কুফলের কথা চিন্তা করে এধরনের প্রকল্প  নির্মাণের মাধ্যমে প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণের দুর্বুদ্ধি থেকে যখন  বিশ্বের অনেক দেশ পিছিয়ে আসছে। অথচ বাংলদেশের সাথে আলোচনা না করে নদী সংক্রান্ত কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে না বলে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে দেয়া প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ৫৪ টি অভিন্ন নদীর মধ্যে ভারত গঙ্গাসহ ইতোমধ্যে দু’দেশের মধ্যে প্রবাহিত ৩৮টি  অভিন্ন নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে অবরুদ্ধ করে বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিনত  করার চক্রান্ত করা হচ্ছে।

তারা বলেন, এদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা, হাট-বাজারের গোড়াপত্তন, শহর-নগরের সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ফল-ফসলাদি উৎপাদন, জীব বৈচিত্রের ব্যাপকতা, মাটির উর্বরতা ও লবনাক্ততা এবং  ক্ষারত্বের ও অম্লত্বের ভারসাম্য  বজায় রাখার ক্ষেত্রে  নদী আমাদের অস্তিত্বের অংশ।  কিন্তু ভারতের  পানি আগ্রাসনের  ফলে সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা, নদী-মেঘলা বাংলাদেশে আজ মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।  কারণ বৃহৎ প্রতিবেশি ভারত গঙ্গায় ফারাক্কা, তিস্তায় গজলডোবা, বরাকে টিপাইমূখ এবং ব্রহ্মপূত্রে যোগীর খোপা, সুবনশ্রী বাঁধ ছাড়াও ব্রহ্মপূত্রের উৎস মানস ও সংকোষের ওপর বাঁধ তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে  যাচ্ছে।

তাছাড়া ভারত কর্তৃক আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের অধীনে নর্মদা নদীর পানি শিপ্রা নদীতে প্রবাহের জন্যে সিমহস্ত সংযোগ প্রকল্প উদ্বোধনও বাংলাদেশের জন্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা। 

পানির ব্যাপারে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার জন্যে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশীর আশু কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেবি