বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহনগরী সেক্রেটারী নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দলের দাবীদার হলেও স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭২-৭৫ পর্যন্ত তারা দেশে চরম দুঃশাসন চালিয়েছে।
তারা রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতেই সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেশে একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম করেছিল।
মাত্র ৪ টি সরকারী পত্রিকা বাদে সকল পত্রিকা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তারা নিজেদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই ৩০ হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা করে দেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করেছিল।
আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসেও গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
আজ রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
ঢাকা মহানরীর কর্মপরিষদ সদস্য এ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দীনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যে মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ফরিদ হোসাইন, ঢাকা মহানগীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররাম হোসাইন খান ও পল্টনা থানা সেক্রেটারী আমিনুর রহমান প্রমূখ।
বুলবুল বলেন, ১৯৮২ সালের মার্চ একটি নির্বাচিত সরকারকে বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতাচ্যুত করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার।
দীর্ঘ ৯ বছরের আন্দোলনের ফলে স্বৈরাচারী এরশাদের পতন হয় এবং দেশে গণতন্ত্র আবারও ফিরে। কিন্তু আওয়ামী ২০০৮ সালের পাতানো ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্র, অবাধ ও সুষ্টু নির্বাচনের রক্ষাকবজ কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করে এবং ৫ জানুয়ারীর তামাশা ও ভাঁওতাবাজীর নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক মারা হয়।
মূলত আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর কল্যাণে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী আওয়ামী সরকারের পতনের কোন বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, সরকারের নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই আজ আমাদেরকে বিজয় দিবসের আলোচনা ঘরে মধ্যে করতে হচ্ছে। রাজপথে জনগণের সভা-সমাবেশ করার কোন অধিকার নেই।
সরকার নিজেদের পর্বত প্রমাণ অপকর্ম ঢাকতেই গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরেছে। টক-শোগুলোতেও স্বাধীনভাবে কথা বলার কোন সুযোগ নেই। মূলত সরকার নিজেদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে বিরাজনীতিকরণ শুরু করেছে।
দেশকে বিরোধী দলমুক্ত করার গভীর ষড়যনেন্ত্রর অংশ হিসাবেই জামায়াত ও বিএনপি’র বিরুদ্ধে জুলুম-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তারা কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যর গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
আসলে আওয়ামী দেশ থেকে ইসলাম, ইসলামী মূল্যবোধ ও গণতন্ত্রমুক্ত করে চিরদিন ক্ষমতায় থাকার দিবাস্বপ্ন দেখছে। কিন্তু সচেতন জনতা সরকারের সে ষড়যন্ত্র কখনোই বাস্তবায়িত হতে দেবে না বরং যেকোন জীবন দিয়ে হলেও সরকারের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় দুর্ভেদ্য প্রাচীর ঘরে তুলবে।
তিনি ষড়যন্ত্র ও হত্যার রাজনীতি বন্ধ করে অবিলম্বে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।
এসএইচ





