বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর সভাপতি সালাউদ্দিন মাহমুদ বলেন,ধর্মের উপর ভিত্তি করেই এ উপমহাদেশ বিভক্ত হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী সে সব ভুলে গিয়ে একটি ধর্মহীন শিক্ষা ব্যবস্থা জনগণের উপর জোর পূর্বক চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করে।

১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট সেই শিক্ষা নীতির উপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিতর্কে ধর্মীয় বিষয় অর্ন্তভুক্ত করার ব্যাপারে যুক্তি ভিত্তিক কথা বলার কারণে বিরোধীতাকারী শক্তি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের অদূরে ঢাবি’র মেধাবী ছাত্র আব্দুল মালেক এর উপর অত্যন্ত বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলা চালায় এবং ঘটনার ৩ দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি পরপারে পাড়ি জমান।

এরই ধারাবাহিকতায় যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আরোহন করেছেন তারা কেউই আজ সেই ধর্মহীন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বাইরে আসতে পারেনি। বরং সব শাসকই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধর্মহীন নীতি বিবর্জিত জাতি উপহার দিচ্ছে যারা দেশে দুর্নীতির মহোৎসবের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশ কে দুর্নীতিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দেশে জনগণের সেবক হিসেবে যারা কাজ করছে তাদেরকে উৎকোচ না দিলে এক টেবিলের ফাইল কোন ভাবেই অন্য টেবিলে যেতে পারে না। এমন শিক্ষিত অসৎ কর্মকর্তা, কর্মচারী দেশকে ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।ক্ষমতাসীন সরকার নিজেদের আখের গোছাতে যেয়ে প্রশাসনের দুর্নীতিকে জ্যামিতিক

হারে প্রশ্রয় দিচ্ছে। একমাত্র পরকালীন জবাবদিহিতার ভয় ছাড়া আমাদের প্রিয় এ মাতৃভূমিকে দুর্নীতিমুক্ত সৎ প্রশাসক উপহার দেয়া কোন ক্রমেই সম্ভব নয়। এজন্য দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে গরীব মেধাবী ছাত্রদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগর উত্তর শিবির নেতা কুতুবুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন নগর উত্তর সেক্রেটারী নাজিব আহসান, শিবির নেতা এস কে সিকদার, ফারুকে আজম, রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় শিবির নেতৃবৃন্দ দেশে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্থবায়ন না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ উপস্থিত প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩০ জন গরীব মেধাবী ছাত্রদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন।

এমবিএইচ