ভোটের বিজয় নয়, সোহরাওয়ার্দীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র হত্যার উৎসব করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।রোববার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, জনগণের কোটি কোটি টাকা শ্রাদ্ধ করে গতকাল শনিবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তথাকথিত বিজয়ের উৎসব উদযাপন করেছে সরকার। 

ভোট ডাকাতির পর নির্বাচনকে জায়েজ করার জন্য সরকার যা যা করছে তা চরম হাস্যকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, জনগণ মনে করে- ভুয়া ভোটের সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা জানানো উচিৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। কারণ ভোটের আগের দিন রাতে তারাই নৌকা মার্কায় সিল দিয়ে ব্যালট বাক্স ভরেছেন।

ভোট ডাকাতির কেলেঙ্কারি আড়াল করতে বর্তমান সরকার বৈধতা পেতে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেনদরবার শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করে রিজভী।

তিনি বলেন, এরকম ভুয়া ভোটের নির্বাচন বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষ ও তাদের নির্বাচিত সরকারের কাছে কানাকড়ি মূল্য নেই। জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কোনো সরকার কখনোই টিকতে পারেনি।

রিজভী আরো বলেন, মিথ্যা জয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠেছে। কুৎসিত অপকর্ম করতে তারা এখন বেপরোয়া। তারা বিরোধী দলের সহায়-সম্পত্তি দখল ও লুটের পাশাপাশি নারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘যখন মহাভোট ডাকাতিতে ভোটাধিকারহারা জনগণ ব্যথিত, বিমর্ষ ও বাক্যহারা, তখন তাদেরকে নিয়ে অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর এধরণের বক্তব্য নিষ্ঠুর রসিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিএনপির এই নেতা বলেন,‘গতকাল ভুয়াভোটের সরকারপ্রধান যখন বাংলাদেশে ভোটাধিকার হরণের পর উৎসব করছেন তখন জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে শিরোনাম ছিল বাংলাদেশে নির্বাচন অবশ্যই সঠিক ছিল না। বিবিসির হেড লাইন ছিল গণতন্ত্র থেকে ছিটকে পড়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া বিশ্ব মিডিয়ায় বলা হয়েছে বাংলাদেশের নির্বাচন ছিল বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ। এই নির্বাচনকে সিএনএন বলেছে প্রহসন, এই বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে বিপজ্জনক যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ।’

তিনি উল্লেখ করেন, পৃথিবীর খ্যাতনামা স্কলাররা বাংলাদেশের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম নির্বাচন বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রখ্যাত স্কলার বলেছেন-‘বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনগোষ্ঠী নির্বাচনের ফলাফল চুরি করেছে। ভাট চুরির সব নোংরা কৌশল প্রয়োগ করে শেখ হাসিনা এবং তাঁর দল ৯৭.৬৬ শতাংশ ফলাফল নিজের দলের জন্য ভাগিয়ে নিয়েছেন।

রিজভী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কোন সরকার কখনোই টিকতে পারে না, ভয় দেখিয়েও বেশি দিন টেকা যায় না। ‘ম্যাকিয়াভেলি’র নীতি অবলম্বন করে ক্ষমতায় থাকার দিন শেষ হয়ে গেছে।’’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি'র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, আতাউর রহমান ঢালী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহদফতর সম্পাদক মো. মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।