জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয়-নিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে চলমান অবরোধ ও হরতালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণগ্রেফতার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গুম, গুপ্তহত্যা, সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের তান্ডব, বিরোধী নেতাকর্মী আটক করে থানায় নিয়ে পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মহানগরী আমীর বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতি-উৎসাহী সদস্য যারা প্ররোচিত করে অথবা সরাসরি গুলি করে নিরীহ, শান্তিপ্রিয় মানুষ হত্যা লিপ্ত তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। জনবিচ্ছিন্ন সরকারের পাশে দলীয় সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রীয় বাহীনি ছাড়া আর কেউ নেই। আন্দোলন দমনের নামে আওয়ামী লীগ এখন জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যেখানে সেখানে লাশ ফেলে রাখছে। বাসা-বাড়ি, কর্মস্থল কিংবা রাস্তা থেকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডের নামে চালানো হচ্ছে নির্মম নির্যাতন। রেহাই পাচ্ছে না সাধারণ মানুষও।

তিনি বলেন, মঙ্গলবারও রাজধানীর পল্টন থেকে জামায়াত-ছাত্রশিবিরের আনোয়ার, কামরুজ্জামান রিপন, আক্তার, ফারুককে, কল্যাণপুরে একটি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে ছাত্র আব্দুল্লাহ হাসান তানভীরকে ৫ম বর্ষের ভাইভা থেকে বের হওয়ার পথে, যাত্রাবাড়িতে নিজ কর্মস্থল থেকে আতিকুল্লাহ মুন্সিসহ আরো ২জনকে এবং সূত্রাপুর থেকে ২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সকল গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান মহানগরী আমীর।

জামায়াত নেতা বলেন, যেভাবে মানুষ নিজের দেশের সরকারের হাতেই সীমাহীন উৎপীড়িত হচ্ছে, এটা বেশিদিন চলতে পারে না। মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন আর জনগণ বসে থাকবে না। তীব্র গণরোষে সরকারের ঐতিহাসিক পতন হবে।

তিনি আরো বলেন, আজ বাংলাদেশে জনগণের সকল অধিকার ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে বিধ্বস্ত। উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম স্তব্ধ। সংবাদ-মাধ্যম শৃংখলিত। জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে সমস্যা ও সংকটের কোনো সুরাহা হবে না। সন্ত্রাসের পথে অবৈধ ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করার অপচেষ্টাতেও শেষ রক্ষা হবে না। বরং তাতে সংকট আরো জটিল ও গভীর এবং সমাধানের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, বাস্তবতা উপলব্ধি করে, গণতন্ত্রের পথে আসুন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের দিকে তাকান, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিন, অর্থনীতি রক্ষা করুন। বাংলাদেশের শান্তি প্রিয় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করুন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা জনগণের সেবক। সুতরাং জনগণের সঙ্গে থাকুন। বেআইনী কার্যকলাপ ও হত্যা-নির্যাতন থেকে বিরত থাকুন। এ সরকার অবৈধ। অবৈধ সরকারের কোন অধিকার নেই রাষ্ট্র পরিচালনার ও রাষ্ট্র ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীগণ এ সরকারের আদেশ মানতে বাধ্য নন। এ অবৈধ সরকারের সকল সিদ্ধান্ত, বে-আইনী, সংবিধান পরিপন্থী। সুতরাং সুস্থ, স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করুন। সকল নাগরিকের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

মহানগরী আমীর বলেন, জনগণের এ আন্দোলন বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত আছে এবং থাকবে। সরকার পতনের চূড়ান্ত মুহূর্তে আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী মহল, সাংবাদিক, শিক্ষক-ছাত্র, আইনজীবী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারক ও ব্যাংক-বীমার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল পেশা ও শ্রেণীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান।

সেই সঙ্গে গনতন্ত্র ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অংশ হিসাবে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত দেশব্যাপী অবরোধসহ সর্বাত্মক হরতাল সফল করতে রাজধানীর সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল মিথ্যাচার ও কারসাজিকে মোকাবিলা করে তাদের হৃত অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে অটল থাকার আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তি

জেএ