বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘কোরবানী’ শুধু পশু যবেহ করার মতো আনুষ্ঠানিকতা সর্বস্ব ইবাদত নয়, বরং নিজের পশুপ্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনই কোরবানীর প্রকৃত শিক্ষা। পবিত্র কালামে হাকীমের সূরা আল আনয়ামের ১৬২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানী, আমার জীবন, আমার মৃত্যু, সবকিছু মহান আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক’। তাই কোরবানীর শিক্ষাকে বাস্তবজীবনে প্রতিফলন ঘটিয়ে ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তি অর্জনই পশু কোরবানী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তিনি পবিত্র ঈদুল আযহার শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
শুক্রবার রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের কাফরুল-মিরপুর জোন আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জোন পরিচালক লস্কর মোহাম্মদ তসলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য মো: শহীদুল্লাহ, অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম, আব্দুল মতিন খান, আলাউদ্দিন ও তারেক রেজা প্রমুখ।
জামায়াতের আমির বলেন, পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ৮১ বছর আগে মাত্র ৭৫ জনকে সাথে পথচলা শুরু করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল জাহেলী শ্রোতের বিপরীতে ওহীভিত্তিক একটি ব্যতিক্রমী শ্রোত তৈরি করা। মাত্র গুটিকয়েক লোক নিয়ে আমাদের যাত্রা নিয়ে শুরুতেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হলেও বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের আটটি দেশে জামায়াতে ইসলামী মজবুতভিত্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই আন্দোলন এখন বিশ্বব্যাপী অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে। যা এখন এক বিশাল মহীরূহে পরিণত হয়েছে। এখন ফুল ফুটবে; ফলও আসতে শুরু করবে- ইনশাআল্লাহ। কিন্তু কায়েমী স্বার্থবাদী ও শোষকগোষ্ঠী এই আন্দোলনের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা ফুৎকার দিয়ে এই আন্দোলন নিভিয়ে দিতে চায়। কিন্তু এই অপশক্তি অতীতে কখনো সফল হয়নি, আর কখনো হবেও না। তিনি সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে দ্বীন বিজয়ের প্রত্যয়ে সকলকে সর্বশক্তি নিয়োগের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও আদর্শবাদী সংগঠন। আমরা দেশকে ন্যায়-ইনসাফেরভিত্তিতে মানবিক মর্যাদার দেশে পরিণত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এই জন্যই আমাদের ওপর নেমে এসেছে ইতিহাসের নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতন। অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়েছে শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ সকলের ওপর। জেল-জুলুম, মামলা-হামলা এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেয়া হয়েছে আমাদের শীর্ষ নেতাদের। জেলের বাইরে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে অসংখ্য নেতা-কর্মীকে। অনেকে পঙ্গুত্বও বরণ করেছেন। কিন্তু আমরা এসবে কোনোভাবেই পাত্তা দিইনি, বরং শত জুলুম-নির্যাতনের মধ্যেও আমরা আমাদের লক্ষ্যপানে আপোষহীন রয়েছি। আর দ্বীন প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলনে আপোষহীনই থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আমাদের এই জন্মভূমি বাংলাদেশ, একটি অনন্য সুন্দর দেশ। এই দেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্রে ভরপুর। এদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসী। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে এদেশ আমদানী করা আদর্শ দিয়ে শাসিত হচ্ছে। ক্ষমতালিপ্সা; ব্যক্তি, পরিবার ও গোষ্ঠীতন্ত্রের কারণে সাধারণ মানুষ আজ অধিকার বঞ্চিত। অপশাসন ও দুঃশাসনে জনগণ দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হলেও এক শ্রেণির বিশেষ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। আর দেশকে এই নেতিবাচক বৃত্ত থেকে বের করে আনার জন্য জামায়াতে ইসলামী অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে।
এমআর





