বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক জোটের শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে দেয়া সাত বছরের কারাদাণ্ডের রায়ের খবরটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে প্রায় সব প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।
সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাককালে দেয়া এই কারাদণ্ড এই মুহুর্তে বাংলাদেশের রাজনীতির ময়দানে সব চেয়ে বড় খবর।
বিতর্কিত মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে দেয়া এই শাস্তি আসন্ন নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, রাজনীতিতে এর প্রভাবই বা কতটুকু এবং এভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে রেখে সরকারই বা কী অর্জন করতে চায়- এমন নানা দিকের ইঙ্গিত রয়েছে এসব প্রতিবেদনে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনের শীরোনামে বলা হয়, “বাংলাদেশের আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে সাত বছর জেল দিয়েছে।”
সাব-হেডে বলা হয়, “অজানা উৎস থেকে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট বা সেবা প্রতিষ্ঠানে পোনে ৪ লাখ ডলার বা প্রায় ৩ কোটি টাকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করার জন্য দায়ী করা হয়”।
এই মামলাটিকে একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করে খালেদা জিয়ার সমর্থকদের দেয়া বক্তব্যও তুলে ধরা হয় আল-জাজিরার প্রতিবেদনে।
মামলার রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এরই মধ্যে এতিমের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরেক মামলায় একই আদালত বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল।
বর্তমানে সেই মামলা কারাগারে আটক অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকার এক সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই অদ্যাবদী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বেগম জিয়া।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের শিরোনাম করা হয়, “দ্বিতীয় শাস্তির ফলে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আরো দুই বছরের অতিরিক্ত কারাভোগ”।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭২ বছর বয়সী খালেদাকে আরো তিন সহযোগীসহ সোমবার এই শাস্তি দেয়া হয়। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সবশেষ প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি এতিমখানার ৩.১ কোটি টাকার অপব্যবহার করেছেন।
প্রতিবেদনে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এমন দোষে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে মর্মে বিএনপির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তাও উঠে আসে রয়টার্সের প্রতিবেদনে।
এতে বলা হয়, একটি রক্তাক্ত সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালে হাসিনার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে যেই নির্বাচনটি খালেদা জিয়া বয়কট করেছিলেন।
ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের শিরোনামে বলা হয়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আরেক দুর্নীতির মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
একই দিনে খালেদা জিয়ার মামলা নিম্ন আদালতে চলতে পারে মর্মে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে তার করা লিভ টু আপিল সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টিও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পরস্পরবিরোধী কঠোর রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়টিও উঠে আসে ভারতীয় এই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
দি ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়, “বাংলাদেশের আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে ৭ বছরের সাজা দিয়েছে”।
প্রতিবেদনে খালেদা জিয়ার বয়স ৭৩ বছর উল্লেখ করা হয়। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে তার আগে খালেদা জিয়া ও তার দলকে দুর্বল করতেই একের পর এক দুর্নীতির মামলা দেয়া হচ্ছে মর্মে খালেদার সমর্থকদের অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয় ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে।
অবশ্য, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রজু করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সরকার ও বিরোধী দুই পক্ষের চলমান পরিস্থিতিই তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে ডানপন্থী জামায়াতে ইসলামীকে বিএনপির প্রধান সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেয়ার পর দলটি পুনরায় তার শক্তি অর্জনের জন্য কাজ করছে বলেও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়।
নিউইয়র্কের প্রভাবশালী দৈনিক দি নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদটি অনেকটাই ওয়াশিংটন পোস্টের মতোই। সেখানে খালেদা জিয়া বর্তমানে যে নানা শারিরীক জটিলতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সেই বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া ইন্ডিয়া টুডে, ডয়েচে ভ্যালি ও ফক্সনিউজসহ বিশ্বের প্রায় সব প্রভাবশালী গণমাধ্যমেই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খালেদা জিয়ার সাত বছরের সাজার খবরটি তুলে ধরা হয়।
কেবি





