ভালো নেই মহাজোট সরকারের সাবেক মন্ত্রীরা। বর্তমান মন্ত্রী সভায় স্থান হয়নি অনেকের। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়নও হারিয়েছেন অধিকাংশরা। মন্ত্রী থাকা অবস্থায় নিজের নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে বেড়েছে তাদের দূরত্ব। বর্তমানে দলেও নেই তাদের ভালো অবস্থান। সবকিছু হারিয়ে অনেকেই এখন হতাশ। তবে অনেকে এখনও মন্ত্রীত্ব পাওয়ার জন্য দিন-রাত দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
মহাজোট সরকারের আগের মন্ত্রী সভার ৩৬ জন মন্ত্রী বর্তমান মন্ত্রীসভায় স্থান পাননি। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিভিন্ন বিতর্ক জন্ম দেয়ার কারণেই সাবেক এ মন্ত্রীদের নতুন মন্ত্রীসভার বাইরে রেখেছেন দলীয় সভানেত্রী। এসব মন্ত্রীর কেউ আবার সরব হয়েছেন দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। কেউ আবার দেখা শুনা করছেন নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য। আবার অনেকেই সময় কাটাচ্ছেন পরিবার পরিজনের সঙ্গে।
অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন:
আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন মহাজোট সরকারের আগের মন্ত্রী সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্ব পেয়েছিলেন। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেফতার না করার ব্যর্থতা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছেড়েছিলেন তিনি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও স্থান হয়নি মন্ত্রীসভায়। এখন আর দলীয় কার্যালয়ে তেমন একটা দেখা যায় না তাকে। সাহারা খাতুন তার পুরনো আইন পেশা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত:
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর রেলমন্ত্রী হয়েছিলেন। রেলের কালো বিড়াল বের করতে গিয়ে নিজেই জড়িয়ে পড়লেন রেলের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায়। এরপর মন্ত্রীত্ব হারান তিনি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য হলেও ঠাই হয়নি মন্ত্রীসভায়। এখন তার সময় কাটে সংসদ এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে। এছাড়াও আওয়ামী লীগপন্থী বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের অতিথি হিসেবে প্রায়ই দেখা যায় সাবেক এ মন্ত্রীকে।
ডা. দীপু মনি:
সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি সবাইকে চমকে দিয়ে দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন। দ্বায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০৩ বার বিদেশ ভ্রমনের রেকর্ড গড়েন তিনি। তার বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে মন্ত্রীসভায় স্থান পাননি। এখন অনেকটা দলের কার্যক্রমে মন দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করছেন। সভানেত্রীর কার্যালয়সহ দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত দেখা যায় তাকে।
ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর:
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর মহাজোট সরকারের মাঝামাঝি সময়ে দ্বায়িত্ব পেয়েছিলেন। মন্ত্রী থাকা অবস্থায় আলোচনা-সমালোচনা তার পিছু ছাড়েনি। সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসের পর তার দেয়া (ঝাঁকুনি তত্ত্ব ) ব্যাপক সমালোচনার ঝড়  তোলে। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তবে মন্ত্রী সভায় স্থান হয়নি তার। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদ থেকে তাকে উপদেষ্টা পরিষদে নেয়া হয়েছে । দলীয় কার্যালয়ে তিনি যান না। এমনকি দলীয় কোন কর্মসূচিতেও দেখা যায় না সাবেক এ মন্ত্রীকে।  নির্বাচনী এলাকায়ও তার অবস্থান ভাল নয়। বর্তমানে তিনি ব্যক্তি মালিকানাধীন বেসরকারি ফার্মার্স ব্যাংকের পরিচালনার সঙ্গে রয়েছেন। ওই ব্যাংকেই এখন তার বেশি সময় কাটে।
ডা. আ ফ ম রুহুল হক:
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক মন্ত্রী থাকা অবস্থায় দলের নেতাকর্মীরা তার কাছে ছিলেন গুরুত্বহীন। স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার নামে। এদিকে এলাকায়ও জনবিচ্ছিন্ন  হয়ে পড়েছেন তিনি। একারণেই এবারের মন্ত্রী সভায় স্থান হয়নি রুহুল হকের। এখন তিনি ব্যবসা ও পরিবার নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ব্যরিস্টার শফিক আহমেদ:
সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যরিস্টার শফিক আহমেদ, সংসদ সদস্য না হয়েও প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হওয়ার কারণে  মন্ত্রী হয়েছিলেন। আওয়ামী ঘরানার লোক হলেও দলে তার কোন পদ-পদবি ছিল না। মন্ত্রীত্ব অবস্থায় তার নামে কোন অভিযোগ ছিল না। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি। বর্তমানে তিনি তার আইন পেশা নিয়েই ব্যস্ত আছেন।
ড. হাছান মাহমুদ:
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ মহাজোট সরকারের আগের মন্ত্রীসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। পরে তাকে পূর্ণমন্ত্রীত্ব দিয়ে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে বর্তমান মন্ত্রীসভায় স্থান হয়নি তার। বর্তমানে তিনি দলীয় কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন সময় বিরোধী দলের বক্তব্য নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এছাড়া প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন নিজের নির্বাচনী এলাকায়ও।
সৈয়দ আবুল হোসেন:
সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন পদ্মাসেতুর দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে মন্ত্রীত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর দল থেকেও বিচ্ছিন্ন হন আবুল হোসেন। ১০ম জাতীয় সংসদ  নির্বাচনে মনোনয়নও পাননি তিনি। এখন রাজনীতি থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন রয়েছেন সাবেক এ মন্ত্রী। বর্তমানে নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়েই সময় পার করছেন।
দলের মনোনয়ন পায়নি যারা:
এদিকে সাবেক কয়েকজনমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পর্যন্ত পাননি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিজ থেকেই মনোনয়ন চাননি পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) এ কে খন্দকার, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ। এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন পাননি সাবেক প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মুহাম্মদ এনামুল হক।
[b]ঢাকা, এমআর, ৩০ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসআর [/b]