প্রথম বারের মত দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য পৌরসভা নির্বাচনে পাইকগাছায় তিন প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

তবে একক প্রার্থী দিতে পেরে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ও জামায়াত।

মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের তিন জন, বিএনপির এক জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছায়ায় জামায়াতের এক জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

তফসিল ঘোষণার আগে বিএনপি থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থীর নাম প্রচার হলেও সর্বশেষ দল থেকে পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তারকে মনোনয়ন দেয়ায় আর কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি।

তবে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে রীতিমত বেকায়দায় পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বর্তমান পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সেলিম জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

তবুও দুই সহোদর পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র শেখ কামরুল হাসান টিপু এবং জেলা যুবলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র শেখ আনিছুর রহমান মুক্ত মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তবে তাদের বোন সুরাইয়া বানু ডলি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনলেও তা জমা দেননি।

এদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে শেখ কামরুল হাসান টিপু দলীয় সমর্থন পাওয়া সেলিম জাহাঙ্গীরকে এক প্রকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন।

গত বুধবার সেলিমকে জামায়াত পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে সেখানে নিজের নাম অন্তর্ভূক্তির দাবি জানান তিনি।

বুধবার বিকেলে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কামরুল হাসান টিপু অভিযোগ করেন, সেলিম জাহাঙ্গীরের মা বেগম সুফিয়া জামায়াতের এক জন রোকন।

প্রসঙ্গত, গত পৌরসভা নির্বাচনের আগে সেলিম জাহাঙ্গীর সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচন করলে কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন তিনি।

আর এমনটি হলে অতীত পরিসংখ্যান অনুযায়ী এবার নির্বাচনী ফলাফলের সহজ সমীকরণটা খানিকটা হলেও পাল্টে যেতে পারে বলে মনে করছেন পৌর ভোটাররা।

১৯৯৭ সালে মাত্র ২.৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত হয় পাইকগাছা পৌরসভা। গত তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মেয়র নির্বাচিত হলেও অধিকাংশ কাউন্সিলর নির্বাচিত হন বিএনপির।

এবার ভোটররাও এগিয়ে রেখেছিলেন মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থীকেই। তবে রাজনৈতিক ডামাডোলে দলের নেতাকর্মীরা মামলার জালে আটকা পড়ায় মূলত নির্বাচনের মাঠ শূন্য হয়ে পড়েছে।

তবে রাজনৈতিক সমীকরণ যাই বলুক ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রার্থী প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ায় কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিন অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িত দলটির মধ্যে পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেন নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

ঠিক এমন অবস্থায় মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন বিদ্রোহীরা তাদের মনোনয়নপত্র তুলে নিলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন কি না তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে রীতিমত সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, পাইকগাছা পৌরসভায় মেয়র পদে পাঁচ জন, সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৪৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

এসএইচ