ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিতরে ভিপি নুর ও তাঁর সহকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদের যৌথ হামলার ঘটনা ‘অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য’ মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ প্রশ্ন তুলেছেন, সেখানে কেন বহিরাগতরা অবস্থান নিয়েছিল।
আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হবে। এ হামলার ঘটনায় অন্য কোনো মহলের ইন্ধন ছিল কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হবে।
আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা নুরের ওপর হামলার বিষয়টি উত্থাপন করলে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয়েও কথা বলেন।
গতকাল রোববার দুপুরে লাইট বন্ধ করে রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে ডাকসু ভবনের ভেতরে ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়। এতে ভিপি নুরসহ তাঁর সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্তত ২০ জনের মতো আহত হন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের নেতৃত্বে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন এবং ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের সমর্থক শতাধিক নেতাকর্মী রড, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুপুরে এই হামলা চালায়।
নুরের ওপর হামলার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দল কখনো এ ধরনের হামলাকে সমর্থন করে না। হামলার পর পরই আমাদের দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা নুরকে দেখে এসেছেন। সেখানে তাঁরা আমাদের দলের অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেছেন।’
হামলার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘একটা প্রশ্ন থেকে যায়। নুর কেন বহিরাগতদের নিয়ে সেখানে গেলেন? এতগুলো বহিরাগতকে নিয়ে সেখানে যাওয়ার কি প্রয়োজন ছিল? আপনারা দেখেছেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য দেশে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র আছে। রাজনৈতিকভাবে সরকারকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে আমাদের প্রতিপক্ষ যারা দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চায়, সেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। এ ঘটনা ষড়যন্ত্রের অংশ কি না এবং এ ঘটনার পেছনে কারো উসকানি ছিল কি না, সেটা দেখা হচ্ছে।’
‘ভারতের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে আন্দোলন করার চেষ্টা ডাকসুর কাজ নয়। তাদের কাজ হচ্ছে, ছাত্রদের বিষয় নিয়ে কথা বলা। যেটার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা দরকার সেটা না করে ভারতের বিষয় নিয়ে আন্দোলনের চেষ্টার পেছনে কারো ইন্ধন আছে কি না, তা দেখার প্রয়োজন রয়েছে। তবে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়।’
তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ব্যানারে ছাত্রলীগ-ছাত্রফ্রন্ট এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী যে কোনো সংগঠনের নেতারাই থাকতে পারে। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ব্যানারে।
আওয়ামী লীগের কাউন্সিল নিয়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল দেশের প্রক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই কাউন্সিলকে ঘিরে সমগ্র জেলা ও উপজেলায় কাউন্সিল ঘোষণা করা হয়েছে।
টানা তিনবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে। সে কারণে দলের মধ্যে অনেক স্বার্থান্বেষী মহলের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এবার জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে সব জেলা-উপজেলায় যে কাউন্সিল হয়েছে সেখানে একটি বার্তাই দেওয়া হয়েছে। দলের মধ্যে যারা সুযোগসন্ধানী, যারা একসময় দলের বিরুদ্ধে কাজ করেছে, যারা অনুপ্রবেশকারী, তাদের অবশ্যই নেতৃত্বে আনা যাবে না। সেই মোতাবেক জেলা ও উপজেলায় কমিটি করা হয়েছে।
এমআর





