আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিশাল বিজয়ের পর শেখ হাসিনা আর আওয়ামী লীগের নেত্রী নন, তিনি বাংলার ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির মহান নেত্রী। শনিবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির নিরঙ্কুশ বিজয় উদযাপনে আয়োজিত মহাসমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাসিম আরও বলেন, যারা নির্বাচনে, লড়াইয়ের মাঠে হেরে গেছে তারা যতই চেষ্টা করুক না কেন, তারা আর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুকন্যা যে শ্রদ্ধা ভালোবাসায় ভূষিত হয়েছেন বাংলার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আগামী পাঁচ বছর সফলতার সঙ্গে সরকার পরিচালনা করবেন।
সমাবেশে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুদৃঢ় করা ও অর্থনৈতিক মুক্তির কাজকে সম্পন্ন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ নানা উন্নয়ন কার্মকাণ্ডে আজকে সব গ্রামে সুবাতাস। যার ফলে এই বিজয়।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ সোনার বাংলা হবে, এ বিশ্বাস নিয়েই মানুষ তাকে ভোট দিয়েছে। আমরা মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য তোফায়েল আহমদ বলেন, এই নির্বাচনে বাংলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করেছেন। সকলে মিলে এই বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নের চরম শিখরে নিয়ে যাব, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।
সমাবেশে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, দেশরত্ন শেখ হাসিনা দেশকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যাওয়ায় এ বিজয় পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়েছেন।
তিনি বলেন, খাদ্য ঘাটতির দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে, দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে, প্রতিবন্ধীদের প্রতি মানবিক সহায়তার জন্য, গ্রামকে শহরে পরিণত করতে এ বিজয় পেয়েছেন শেখ হাসিনা।
মতিয় আরও বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে সমুদ্রে নিক্ষেপ না করে মায়ের মমতায় আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব দরবারে নিজেকে মায়ের স্থানে বসিয়েছেন। এজন্য দেশের জনগণ এ বিজয় উপহার দিয়েছেন’। বিশ্ব ব্যাংক যখন পদ্মাসেতু থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তখন শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করার ঘোষণা, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, দেশকে ডিজিটাল দেশে রুপান্তরের ফলে এ বিজয়।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির হারিয়ে যাওয়া উজ্জ্বল দিন ফিরে পেয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিজয় সমাবেশে অভিনন্দনপত্র পাঠ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আমরা আপনার হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন আজ পূরণের পথে। আমরা আপনার হাত ধরে স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো।
বক্তব্য শেষে ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দনপত্র প্রদান করেন।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও উপ সম্পাদক আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সদস্য মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ (উত্তর) সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানসহ যুবলীগ, তাতীলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আব্দুল মতিন খসরু, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আকম মোজাম্মেল হক, এইচ টি ইমাম, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সালমান এফ রহমান, ডা. দীপু মণি, মাহবুবুল আলম হানিফ, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, অসীম কুমার উকিল, ইঞ্জিনিয়ার এম এ সবুরসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও উপ প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।
এসএম





