‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন’ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানের এ দাবিকে উদ্ভট ও হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সেগুন বাগিচার বীরো উত্তম খাজা নিজামুদ্দিন মিলনায়তনে নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী আয়োজিত “জাতীয় সংগীত এর বিশ্ব রেকর্ড এবং খালেদা জিয়ার নিরবতা” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের  ১৭ এপ্রিল মুজিব নগরের আম্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রীসভা গঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষনা অনুযায়ী বাঙ্গালী জাতির প্রথম রাষ্ট্রপতি হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর মা ঢাকায় বসে, পুত্র লন্ডনে বসে নতুন তত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন। এতদিন বলতেন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক আর এখন বলছেন তিনি ছিলেন প্রথম রাষ্ট্রপতি।
সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, বিএনপির এ দাবির কোন ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি নাই। এটা চরম ইতিহাস বিকৃতি ছাড়া কিছুই নয়।
তিনি বলেন, গতকাল বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আরেকটি কল্প কাহিনী যোগ করেছেন, তিনি বলেছেন তিনি নাকি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি নাকি মুক্তিযুদ্ধের নিদের্শ দিয়েছেন। ৯মাস মুক্তিযুদ্ধের সময় ওনি কোথায় ছিলেন এটা দেশের মানুষ জানে। এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আমার রুচিতে বাধে।
আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, খালেদা জিয়া বুঝতে পেরেছেন যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে এ দেশে রাজনীতি করা যাবে না। এজন্যই তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করছেন।
সুরঞ্জিত বলেন, জাতি যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে তখন বিএনপি নেতারা বেসামাল হয়ে পাগলের প্রলাপ করছেন। জিয়াউর রহমান নিজেও কোনদিন দাবি করেনি তিনি দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি।
কৃষক লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক নাজির মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদ্দুজ্জামান দূর্জয়, সাম্যবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হারুন চৌধুরী, দৈনিক বঙ্গজননীর সম্পাদক কামরুজ্জামান জিয়া, নৌকা সমর্থক গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হুমায়ূন কবির মিজিসহ অনেকে।
[b]ঢাকা, এমআর, ২৮ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)//এএইচ
[/b]