বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যে উন্নয়ন দিয়ে প্রকৃতি ধ্বংস করে হয়, তবে সেই উন্নয়ন দিয়ে কী হবে।

সুন্দরবন ধংস করে রামপালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হলে এর ফলাফল শুভ হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

শনিবার দুপুরে খুলনার একটি হোটেলে ‘দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন ভাবনা ও সুন্দরবন’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন ন্যাশনালিস্ট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (এনটিএ) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ন্যাশনালিস্ট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সেমিনারের শুরুতে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহমুদুল হাসান।

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনের সাবেক সভাপতি আ ন হ আখতার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি এবিএম ওবায়েদুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন, পাওয়ার প্ল্যান্ট বিশেষজ্ঞ খালেদ হোসেন চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ মো. জাকির হোসেন, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা প্রত্যেকেই সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমালোচনা করেন।

তাঁরা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইস্যুতে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে আরও বিদ্যুৎ উৎপাদিত হোক, উন্নয়ন হোক আমরা চাই। কিন্তু পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এর বিরোধিতা করেছেন, তারপরও সরকার যেকোনোভাবেই এখানেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে চায়। কিন্তু তা যদি পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংস করে হয়, তবে সেই উন্নয়ন দিয়ে কী হবে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাপারে ইউনেসকোর দেওয়া প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউনেসকোও চাচ্ছে না সুন্দরবনের কাছে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হোক।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। সারা পৃথিবীর বিবেকবান মানুষ বলছে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র সুন্দরবনকে ধ্বংস করবে। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরাও এ প্রকল্প বন্ধের জন্য দাবি জানিয়েছে। তারপরও প্রভুদের খুশি করার জন্য এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

এসএম