ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আওয়ামী ‘সন্ত্রাসী’রা মিলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ, বিজিবি, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মিলে প্রথম দুই দফা ভোট ডাকাতির পর আগামী ২৩ এপ্রিল ৬২০টি ইউনিয়ন পরিষদের তৃতীয় ধাপের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি প্রার্থী, এজেন্ট ও সমর্থকরা যেন নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে না যায় সে জন্য বাড়ি বাড়ি হুমকি দিচ্ছে আওয়ামী ‘সন্ত্রাসী’ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন। নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে গেলে হত্যা ও লাশ ফেলে দেয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হত্যা এবং লাশের সংস্কৃতি আওয়ামী সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। রক্তের ঘ্রাণ ছাড়া আওয়ামী লীগারদের যেন রাতের ঘুম হয় না।’

‘নির্বাচনী বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের গণগ্রেপ্তার শুরু করছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আতঙ্কের মধ্যেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা কাজ করে যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি জেলায় বিএনপি প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর চালিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা’, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মানুষের ভোটাধিকার হরণ এবং নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণহানির জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার রকিবউদ্দীন ও তার কমিশনারবৃন্দ ইতিহাসে অপরাধী হিসেবেই বিবেচিত হবেন। কারণ প্রাণহানি ঠেকাতে কমিশন কোনো ব্যবস্থা তো গ্রহণ করেইনি বরং উল্টো সরকারি রক্তাক্ত আক্রমণকেই আশকারা দিয়েছে। গত দুই দফা ইউপি নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত ৫০-এর অধিক ব্যক্তি নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ড ও তাণ্ডবের জন্য জনগণ তাদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না। সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন তাদের জনতার আদালতে বিচার হবেই।’

তিনি বলেন, ‘গাজীপুর শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নে মঙ্গলবার রাতে নিজ দলের এক মেম্বার প্রার্থীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী আক্তার হোসেনকে মঙ্গলবার রাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

এছাড়া বুধবার নাটোর সদরের হালসা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের ছবি। নিয়ে গেছে অফিসের চেয়ার টেবিলও বলেও উল্লেখ করেন রিজভী।

এ সময় তিনি নরসিংদী, রাজবাড়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

ইআর