আওয়ামী লীগকে জাতীয় বেঈমান আখ্যায়িত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের দলীয় গঠনতন্ত্রে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও বারবার গণতন্ত্রের ওপর আঘাত দিয়ে তারা জাতীয় বেঈমানে পরিণত হয়েছে।

বৃহস্পাতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শহীদ ডা.শামসুল আলম খান মিলনের ২৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ৯০’এর ঢাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা এতই জনপ্রিয় তাহলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পান কেন? কারণ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আপনাদের জামানত থাকবে না। এসময় তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি ভোট না পেলে রাজনীতি ছেড়ে দিব।

তিনি বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, এই আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল হলেও বারবার দেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হেনেছে। তারা ৮৬ সালে ১৯৭৫ সালে বাকশাল কায়েম করেছিল। এরপর ১৯৮৬ সালে এরশাদের অধীনে পাতানো নির্বাচনে অংশ নিয়ে স্বৈরাচারী শাসনকে প্রলম্বিত করেছিল। একইভাবে ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে আবারো গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, তথাকথিত অবৈধ সরকার দেশের সব কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে চায়। এরা প্রশাসন থেকে শুরু করে বিচার বিভাগসহ সব কিছুতেই দলীয়করণ করতে চায়। যার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে গণতন্ত্রের আন্দোলন থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু খালেদা জিয়াকে আটক করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন রুখা যাবে না।

ডা. মিলনের আত্মত্যাগ ইতিহাসকে পাল্টে দিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার মনে করেছিল মিলনের মত কয়েকজনকে হত্যা করে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছিল ঠিক তার উল্টো। মিলনের আত্মত্যাগের মাধ্যমে গোটা দেশে স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছিল। যার মাধ্যমে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতন তরান্বিত হয়েছিল।

তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সময় এসেছে তোমরা যারা নবীন দেশের গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে নিজেদের শামিল করার। খালেদা জিয়ার আহ্বানে গণতন্ত্র পুণ:প্রতিষ্টার আন্দোলনে সবাইকে শরীক হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

সংগঠনের আহ্বায়ক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সংবাদ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, নাজিম উদ্দীন আলম, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবীব উন-নবী খান সোহেল জাগপা নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দীন আহমেদ মনি প্রমুখ।

এমএইচ, জেএ