বড় আজব সময় পার করছি আমরা। আনসারুল্লাহ বাহিনী তাদের ঘোষিত লক্ষ্য প্রতি মাসে একজনকে হত্যা করার পরিকল্পনা নির্বিঘ্নে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে, আর সরকার চুপ করে দেখে যাচ্ছে। দৃশ্যত মনে হচ্ছে- ব্লগার হত্যাকান্ডের বিচারে সরকারের অপারগতা, নীরবতা অ্যাবসার্ড নাটকের মতো।

রোববার (৯ আগস্ট ২০১৫) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে কমরেড মণি সিংহ সড়কে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) এক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী ও ব্লগার নীলাদ্রী চট্টোপাধ্যায়সহ সাম্প্রতিকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি শিশু হত্যার প্রতিবাদে এবং নিলাদ্রীসহ গণজাগরণ মঞ্চের সব কর্মী, ব্লগার ও শিশু হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে সিপিবি পল্টন শাখা এই সমাবেশের আয়োজন করে।

এতে সভাপতিত্ব করেন পার্টির পল্টন শাখার সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল। বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা সাজ্জাদ জহির চন্দন, রুহিন হোসেন প্রিন্স, ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সাজেদুল হক রুবেল, কার্ত্তিক চক্রবর্তী, সেকেন্দার হায়াৎ, হকার্স ইউনিয়নের আহ্বায়ক আবুল হাশেম কবির, পুস্পেন রায় প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, যে সরকার মৌলবাদী-জঙ্গীবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে সফল বলে দাবি করে আসছে, সেই সরকারের আমলে এসব ঘটনা কিসের ইঙ্গিত দেয়? যেখানে কেউ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করলে সরকার তাকে পাকড়াও করতে দ্বিধা করে না, সেখানে ব্লগার হত্যাকারীরা কীভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে?

অবিলম্বে খুনীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিচারের পাশাপাশি এই খুনীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সভ্যতা ও মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী এই শত্রুদের রুখতেই হবে।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, খুলনার রাকিব, শেরপুরের আরাফাত ইসলাম, নীলফামারীর সবুজ, বরগুনার রবিউলসহ শিশুরা যেভাবে নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডের স্বীকার হচ্ছে তাতে দেশবাসি উদ্বিগ্ন। এই নিষ্ঠুর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

কেবি