বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যুৎ সেক্টরে মহাবিপর্যয়ের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া’র নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি রাজধানীর পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার মোড় থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারী এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারী কামাল হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য হাফিজুর রহমান, আব্দুর রহমান, মোবারক হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরী পুর্বের সভাপতি আরিফুর রহমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুল কাইউম মুরাদসহ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের বিভিন্ন থানা আমীর ও সেক্রেটারিবৃন্দ।

মঞ্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছে। নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত থাকার কারণে দেশের সাধারণ মানুষের কথা তারা বেমালুম ভুলে গিয়েছে। তাদের সীমাহীন দূর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে আজ মহাবিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের মোট চাহিদার আলোকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিবর্তে সরকার কুইক রেন্টালের মতো হঠকারী পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে গিয়ে দেশে এই অচলাবস্থা তৈরি করেছে। তারা ক্যাপাসিটি চার্জের নামে এ খাতে প্রচুর অর্থ অপব্যয় করে আরো লোকশানের সৃষ্টি করেছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে ইনডেমনিটি আইন তৈরি করে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও লুটপাট করেছে। জামায়াতে ইসলামী কুইক রেন্টাল পদ্ধতির বিরোধীতা করে সরকারকে বার বার সচেতন করার চেষ্টা করেছে।

অথচ ক্ষমতাসীন সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। এরফলে সারাদেশে অসহনীয় লোডশেডিং এ মানুষের জীবনে ভয়াবহ দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রদের পড়ালেখা ব্যহত হচ্ছে, দেশের শিল্পোৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকটে দেশের বৃহৎ ২টি সার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে ফলে খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ। সর্বোপরি বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে দেশের সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির ওপর চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তিনি অবিলম্বে বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করে চলমান বিপর্যয়ের হাত থেকে দেশের মানুষকে উদ্ধারের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে চলমান নৈরাজ্য ও বিপর্যয় ক্ষমতাসীনদের নিজ হাতের তৈরী। বিগত দিন গুলোতে তারা এগারোবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। জনগণের পকেট কেটে মুলত লুটেরাদের দেওয়া হয়েছে। সরকার নিজ দলের ব্যবসায়ীদেরকে দুর্নীতি ও অনৈতিকভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে অন্ধকার পথে নিয়ে গেছে।

পরিস্থিতি দিনের পর দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। অথচ এ বিপর্যয় থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের কাছে কার্যকর কোনো রূপরেখা নাই। একদিকে সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছে অন্যদিকে বিরোধী দলমতের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার ও হয়রানী অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সরকারের লাগাম টেনে ধরতে হবে। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নির্দলীয় কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই। যেখানে জনগণ তার ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিতা মুলক সরকার প্রতিষ্ঠিত করবে। তিনি সরকারকে অবিলম্বে কেয়ারটেকার সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার আহবান জানান অন্যথায় দেশের জনগণ আপনাদেরকে চূড়ান্তভাবে বিদায় করতে রাজপথে নেমে আসবে। দেশপ্রেমিক জনগণ এই জুলুমের অবসান ঘটিয়েই ঘরে ফিরবে ইনশাআল্লাহ।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

এবিএস