বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে পুরুষ লোকদের না পেলে নারীদের ধরে নিয়ে জেলে ঢুকাচ্ছে। অতীতে কোনো সরকারই নারীদের ওপর এভাবে অত্যাচার করেনি।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে দেশের জনগণকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে, ছাত্র-যুবকদের আহত ও গণহারে গ্রেফতার করে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার ষড়যন্ত্র করছে।

সরকার নিজের দলীয় সন্ত্রসীদের দিয়ে বাসে ও ট্রাকে বোমা হামলা চালিয়ে দেশে সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেষ্টনীর মধ্যে থেকে ২০ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে তথ্য সন্ত্রাস চালিয়ে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করার অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিরোধী দলীয় জোটের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের আন্দোলন কিছুতেই নস্যাৎ করা যাবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকারের জুলুম-নির্যাতন থেকে নির্বাচিত জন প্রতিনিধিরাও রেহাই পাচ্ছেন না। সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও পলাশবাড়ি উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান জনাব আবু কাউসার মোঃ নজরুল ইসলাম ও ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আবু তালিব সরকারকে অন্যায়ভাবে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। তাদের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে সরকার তাদেরকে বরখাস্ত করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছে।

সরকার জোর করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার জন্য সারাদেশে গণগ্রেফতার অভিযান চালিয়ে আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকা ও সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীসহ ২০ দলীয় জোটের আড়াই শতাধিক নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম, সেক্রেটারী মোঃ হাবিব, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি তোফাজ্জল হোসাইন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গত ১৪ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার নাটিয়াপাড়া থেকে ছাত্রশিবিরের সদস্য মোঃ হাবিবুল্লাহ ও আতাউল্লাহকে এবং বাসাইল উপজেলার টেংগুরিয়া গ্রাম থেকে ছাত্রশিবিরের সদস্য আবু বকর সিদ্দিককে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। তাদের আজ পর্যন্ত আদালতে হাজির করা হয়নি। ফলে তাদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন তাদের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। এভাবে গণগ্রেফতার অভিযান চালিয়ে সরকার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে পারবে না। জনগণের আন্দোলনের মুখে সরকারের সকল ষড়যন্ত্রই খড়-কুটার মত ভেসে যাবে।

বিবৃতিতে ২০ দলীয় জোটের ঘোষিত সকল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সর্বাত্মক সফল করে আন্দোলন চূড়ান্ত সাফল্যের দিকে নিয়ে গিয়ে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য দেশের সংগ্রামী জনতার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

কেএইচ