বিরোধী দল কিংবা প্রশাসনের বাধা নয় কর্মীর অভাবেই পন্ড হয়ে গেল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভা। এমনকি অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের অনেকেই আসেননি। যারা এসেছিলেন তাদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে ফিরে গেছেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদেরকেও ভাবিয়ে তুলেছে। তাই যে কোনো উপায়ে কাল (শুক্রবার) তৃতীয় দিনের সভায় উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য নেতাকর্মীদের তাগিদ দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আলোচনা সভা উপলক্ষে বিশাল মঞ্চ সাজানো হয়। মিডিয়া সেন্টার আর পুলিশ কন্ট্রোল রুমও করা হয়। বসানো হয় সারি সারি চেয়ার। কিন্তু মানুষ আসেনি, মিছিল নিয়েও আসেনি নেতাকর্মীরা।
নির্ধারিত আলোচকরাও আসেননি। আসেননি আলোচনা সভার সভাপতি সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীও।
নেতা শূন্য মঞ্চে দর্শক ছাড়াই কবিতা আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের শিল্পীরা।

অথচ আগের দিনই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। গণমাধ্যম কর্মীরাও যথাসময়ে উপস্থিত হন। হাজির হন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পাঁচজন নেতাও।
তারা হলেন-দপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নান খান, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সদস্য সুজিত রায় নন্দী।
সন্ধ্যায় সভাস্থলে এসে হাজির হন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি সভাস্থলে এসে পরিবেশ দেখে বিরক্তি প্রকাশ করেন। সভাস্থলের চারপাশ ঘুরে বিরক্তি নিয়েই চলে যান। তার সঙ্গে সঙ্গে চলে যান বাকি নেতারাও।
এদিকে আজকের সভা পন্ড হয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতারা উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ। আগামীকালকের আলোচনা সভা সফল করতে নেতাকর্মীদের জোড় নির্দেশ দেয়া হয়েছে দলটির কেন্দ্র থেকে।
আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবাহান গোলাপ বলেন, সমাবেশে অনেক লোকসমাগম করতে হবে। যাতে প্রমাণ হয়, শেখ হাসিনাই শক্তিশালী নেত্রী।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এক বর্ধিত সভায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, যে কোনো মূল্যে কালকের (শুক্রবার) সভা জনসমুদ্রে পরিণত করতে হবে।
কালকের সমাবেশে ব্যাপক লোক জড়ো করতে হবে উল্লেখ করে মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া বলেন, আজ থেকেই এলাকায় এলাকায় কর্মী সভা করতে হবে।
সূত্র জানায়, প্রথম দিনও লোকসমাগম কম থাকায় নির্ধারিত আলোচক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় আসেননি। এতে বিরক্তি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ অনেক নেতা।
ঢাকা, এমআর, ২৬ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ





