বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঈদের পরে যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেএকদলীয় শাসনের শৃঙ্খল ভাঙ্গার জন্য এবং প্রকৃত বহুদলীয় বহুমাত্রিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যদি সংঘাত অনিবার্য হয়, তা মোকাবেলা করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশ দলীয় জোট পণ নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে। এসময় বর্তমান সরকার মাটির নিচের ভূমিকম্প টের পাচ্ছেনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, এই সরকার লাঠি ও বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে। তারা দুর্নীতিকেই সুনীতি, স্বৈরতন্ত্রকে গণতন্ত্র বলে জনগনকে মেনে নিতে বাধ্য করছে। তারা বিরোধী দলের আন্দোলনের ডাক শুনলেই তারা সম্বিত হারিয়ে ফেলেন। সরকার অজানা আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।

জনদুর্ভোগের নিরশনে সরকারের কোন নজর নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম এতোই বেড়েছে যে সাধারণ মানুষ অর্ধাহার অনাহারের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রন না করে সরকার পণ্য সিন্ডিকেটের হোতাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে।

জননিরাপত্তা হুমকী অভিযোগ করে তিনি বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শপিংমল গুলোতে চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম বেড়ে গেছে কয়েকগুন। হাইওয়েতে তল্লাশীর নামে পুলিশের চাঁদাবাজি চরম আকার ধারণ করেছে।  অথচ এসবের দিকে সরকারের কোন নজর নেই।

সরকারকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে রিজভী আহমেদ দাবি করেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ব্যাপক বৃদ্ধির ফলে সাধারন মানুষকে অনাহারে ও অর্ধাহারের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রন না করে বরং পন্য সিন্ডিকেটের হোতাদের স্বমহিমায় বিরাজমান রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

আন্দোলনের ডাক শুনে সরকার দিশেহারা হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অভিযোগ করেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ঈদের আগে সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা চালিয়ে গ্রেফতার ও মামলা দেওয়া হচ্ছে।’

সরকার বন্দুক এবং হুংকারসর্বস্ব বুলিকে নিজেদের টিকে থাকার অবলম্বন মনে করছে-মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘অনাচারকে ঢেকে ফেলার চেষ্টা করা হলেও মানুষের ক্ষোভকে লাল চোখ দিয়ে কখনোই দমানো যায় না। আন্দোলনের প্রশ্নে আমাদের নীতি দ্ব্যর্থহীন।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করীম শাহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারন সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা, এমএইচ, ১৬ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ