ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভায় বক্তব্যের 'যথাযথ' সময় না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, একটা মিটিং যখন করবেন, একটু সাজিয়ে নেবেন। কারা কারা বক্তব্য দেবেন, কে কতক্ষণ বলবেন-এই বিষয়গুলোর আলাপ-আলোচনার দরকার আছে।

তিনি বলেন, আপনি আমাকে প্রধান অতিথি করলেন, আমি আসলাম। মাগরিবের আজান হয়ে গেছে, এখন আমি কি বলবো? এখন কি বক্তব্য দেয়া আমার সমীচীন?

মহানগর নেতাদের উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, এর আগেও আমি আপনাদের মিটিংয়ে আসিনি। তাহলে প্রধান অতিথি হয়ে আমার লাভ কি হলো? এই ট্রেডিশনগুলো যদি বাদ না দেন, এই ট্রেডিশন থেকে যদি বেরিয়ে না আসেন তাহলে পার্টি এগুবে না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন-অগ্রগতিতে নেত্রী ডিজিটালাইজেশন করেছেন। আমাদের আচার-আচরণে ডিজিটাল হওয়ার প্রয়োজন নেই। আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য সিনিয়ারদের সম্মান করা, দলের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা। আচার-আচরণে এনালগ হতে হবে।

তিনি বলেন, ক্ষমতার দাপট কেউ দেখাবেন না। এটি সাময়িক। এটা মনে করেন বলেই শেখ হাসিনা বিনয়ের জন্য এগিয়ে।

শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এ সভায় কাদের বলেন, বাংলাদেশে গত ৪১ বছরে সব চেয়ে সাহসী নেতার নাম শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসকের নাম শেখ হাসিনা। সফল কূটনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। আজকে সারা দুনিয়া জানে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আরেক ধাপ উপরে নিয়ে গেছে।

আসন্ন সম্মেলন প্রসঙ্গে এ নেতা বলেন, দুষিত রক্ত সঞ্চালন করে লাভ নেই। বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন আওয়ামী লীগে হবে। নতুন রক্ত মানে বিশুদ্ধ রক্ত। বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে হবে।

এ সময় সৈয়দ শামসুল হকের আত্মার শান্তি কামনা করে তিনি বলেন, তিনি ছিলেন আমাদের নেত্রীর অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এবং প্রিয় ব্যক্তি। তাকে স্বাধীনতা পদক দিতে গিয়ে নেত্রী বলেছিলেন, স্বাধীনতা পদক দিতে পেরে আমি নিজে সম্মানিত বোধ করছি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল প্রমুখ।

এম এ