বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় এবং রায় পরবর্তী ঘটনপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ।

বাংলাদেশে কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতিসংঘ সদর দফতরে দেয়া নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান জাতিসংঘ মহাসচিবের ডেপুটি মূখপাত্র ফারহান হক। বাংলাদেশে কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে জাতিসংঘের অবস্থান পুনরায় ব্যক্ত করেন তিনি।

নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন জাতিসংঘ সংবাদদাতা ইমরান আনসারী।

এসময় তিনি বলেন , আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের প্রধান নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত  এ রায়ের প্রতিবাদ জানাতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন । প্রতিবাদ বিক্ষোভ বন্ধে সরকার ১৪৪ধারা জারি করেছে । তাজা গুলিবর্ষন করা হচ্ছে। গনমাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে হাজারো নেতা কর্মীদের আটক করা হয়েছে।

জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আনসারি আরো বলেন, আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পুত্র তারেক রহমানকে নির্বাচন থেকে বিচ্ছিন্ন করতেই এ রায় দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি এভাবে তুলে ধরে ইমরান আনসারি প্রশ্ন করেন, এমনই বাস্তবতায় জাতিসংঘ মহাসচিব এই বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন কিনা? এছাড়া রাজনৈতিক এই সংকট নিরসনে তিনি কোনো বিশেষ দূত বাংলাদেশে পাঠাবেন কিনা?

জবাবে ফারহান হক বলেন,  বিষয়টি মাত্রই আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। খালেদা জিয়ার আটকের বিষয়টি উদ্বেগজনক। বিষয়টির পেছনে কি আছে তা আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখছি। এবিষয়ে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি আরো বলেন  আমরা সহিংসতার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করছি। উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান , বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ রায়ের পর আর কি কোনো আশা আছে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হবার।

জবাবে ফরহান হক বলেন,  এরায়ের প্রভাব কি হবে তা আমরা বিচার বিশ্লেষন করে দেখছি। তবে বাংলাদেশে অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের পক্ষে জাতিসংঘের অবস্থান।

সাংবাদিক মাথিউ জানতে চান , বাংলাদেশে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযোগ শুনা যায় বিক্ষোভ দমাতে তারা তাজা বুলেট ব্যবহার করার। আবার এসব সদস্যদের শান্তিরক্ষী মিশনে মোতায়েন করা হয়। জবাবে ফরহান বলেন, শান্তিরক্ষী মিশনে মোতায়েনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ তাঁর মানদন্ড বজায় রেখে চলে।

কেবি