‘বাংলাদেশ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ধর্মীয় সম্প্রীতির সহস্র বছরের একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং মুসলমান ধর্মীয় নেতারা ভাই ভাই হিসাবে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সহকারে নিজ নিজ ধর্ম চর্চার ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন। তবে স্বার্থান্বেষী মহল এ সুসম্পর্কের ভীতে কুঠারাঘাত হানার চেষ্টা করেছে। তাদের এসব চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে সবার ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের বর্ধিত হল রুমে সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি সভার ২য় সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি সভার চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, মানুষ হিসাবে আমাদের অনেক কর্তব্য রয়েছে, সেই কর্তব্য পালন করতে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করা দরকার যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথের বলেন, জন্ম-জন্মাতরে শুদ্ধি লাভ এবং সৃষ্টিকর্তার ধ্যান হচ্ছে সকল শান্তির চাবিকাঠি। ত্রিপিটক, কোরআন, বাইবেল, গীতাসহ সকল ধর্মগ্রন্থে মানুষের সম্মান প্রদান এবং অন্যায় বিবেকহীনতার বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হয়ে থাকার শিক্ষা দেয়। আমরা বন্ধুতা, ভ্রাতৃত্ব চাই এবং সকল ধর্মের নিরবিচ্ছিন্ন চর্চার সুষ্ঠু পরিবেশ সংরক্ষিত হোক এটাই কামনা করি।
পাকিস্তানের ডেপুটি হাই কমিশনার সামিনা মেহতাব বলেন, আমরা সকল ধর্মের লোকই এক আদম এবং হাওয়ার সন্তান, সুতরাং আমরা সবাই এক মানব পরিবারের সদস্য। আমাদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা খুবই জরুরি, যা ভ্রাতৃত্ববোধের পরিচায়ক।
ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সহকারী মহাসচিব স্বামী গুরু সেবানন্দ বলেন, মুহাম্মদ (স.), গৌতমবুদ্ধ, যিশুখৃস্ট এবং হিন্দু ধর্মেও সকল অবতারগণ মানুষের সম্মানকে সর্বচ্চে স্থান দেয়ার শিক্ষাই দিয়েছেন।
সম্মেলনে স্কাইপের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন- অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিবলি আব্দুল্লাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড আইন কলেজের শিক্ষক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।
সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ বায়জীদ মাহমুদ বেশ কয়েকটি প্রস্তবনা উপস্থাপন করেন। সর্বসম্মতভাবে গৃহীত প্রস্তাবগুলো হলো- দেশের চিরায়ত ধর্মীয় সম্প্রীতিকে কেউ যাতে ক্ষুন্ন করতে না পারে তার জন্য ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণকরা, জাতীয় ঐক্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি সভা তার কার্যক্রমকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া, যে সব আইনের কারণে সংখ্যালঘু সম্পদায়ের জমিসংক্রান্ত বিরোধ সৃষ্টি করার মাধ্যমে সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে সেই আইনগুলো সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো।
সম্মেলন থেকে গত ১০ এপ্রিল বরিশাল শহরের কোর্টপাড়াস্থ সেন্টপিটার চার্চের জমি স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারা জোর পূর্বক দখলের এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপর যে সব নগ্ন হামলা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দুস্কৃতিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের মহিলা সম্পাদিকা ব্যারিষ্টার ফাতিমা আনোয়ার ও সদস্য আহসান হাবীব খানের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- রাশিয়ান এ্যামবাসির ফার্স্ট সেক্রেটারি এন্ড্রে ব্যানকায়েভ, ইরানি এ্যামবাসির প্রেস অফিসার মোঃ বেলাল হোসাইন, আর্চবিশপপ্যাট্রিকডি’ রোজারিও, সিএসসি, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস ইন বংলাদেশের ডেপুটি হেড অফ ডেলিগেশনমি. দার্কো জর্দানভ।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনবিভাগের প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান, বাংলাদেশ আন্তঃধর্মীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ব্রাদার জারলাথ ডিসুজা, কবি আল মুজাহিদী, কর্নেল আশরাফ আলদ্বীন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আবদাল, সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সুকমোল বড়ুয়া, সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরী, লে: কর্নেল সৈয়দ আলী আহমদ (অবঃ) প্রমূখ।
সম্মেলনের ২য় অধিবেশনে কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণগঠন, ঢাকা মহানগরী কমিটি গঠনসহ সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে ঢাকা মহানগরী কমিটির আহবায়ক মানোনিত করা হয় কর্নেল অব. আশরাফ আল দীনকে। এছাড়া যুগ্ম আহবায়ক ফাদার রেভারেন্ড, সৌরভ ফলিয়া, ইঞ্জিনিয়ার দিব্যেন্দু, বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়া, এ্যাডভোকেট ঝুলন কান্তিপাল এবং সদস্য সচিব হিসেবে আবেদুর রহমানকে মানোনিত করা হয়েছে।
এআর





