একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

আজ (রোববার) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সেমিনারে তিনি একথা বলেন। ‘গুম-খুন ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজক বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ফোরাম।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের নেতারা পালানোর জায়গা পাবেন না। এটা তারা নিজেরাই বলছেন। এই জনভীতি থেকেই তারা আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করবে না।”

তিনি বলেন, “একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এত উৎকণ্ঠা হতো না। কেন না শেখ হাসিনা তার নিজের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছেন। তার অধীনে নির্বাচন কখনও সুষ্ঠু হবে না। এজন্য আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলেছেন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলেছেন।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, “আওয়ামী লীগ নিজে থেকে কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন দেবে না। এজন্য আন্দোলন করেই আমাদের এই অধিকার আদায় করতে হবে।”

২০০৯ সালের পর থেকে অন্তত ৪০০ জনকে গুম ও দেড় হাজার মানুষ খুন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে এসব গুম-খুন করা হয়েছে। নরায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনা যদি তারা ধামাচাপা দিতে পারত, তাহলে আজ জানা যেত না এর সঙ্গে র‌্যাব জড়িত আছে।”

মোশাররফ হোসেন বলেন, “জাতির দুর্ভাগ্য গুম-খুন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সত্যকে গোপন করে প্রতারণা করছেন। এসব গুম-খুনের দায় তিনি এড়াতে পারবেন না।”

গুম ব্যক্তিদের ফেরত চেয়ে তিনি বলেন, “এখনও সময় আছে গুম হওয়া ব্যক্তিদের তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন। তা না হলে ক্ষমতা গেলে এসব গুম-খুনের খেসারত দিতে হবে।”

সংগঠনের সভাপতি শাহনাজ আকতার রানুর সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কর্নেল (অব.) এম আনোয়ারুল আজীম, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার প্রমুখ।

এমবি