বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি।

দলটি এ আশঙ্কার সঙ্গে সঙ্গে বিভেদ, বিরোধ ও দূরত্ব পরিহার করে দেশের প্রয়োজনে সম্প্রীতির রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানায়।

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রবিবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন শেখ হাসিনার প্রতি এ আহ্বান জানান।

এর আগে সেখানে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দল ও সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, গত পরশু প্রধানমন্ত্রী একটি বক্তব্যে বলেছেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত, এতে কোনো সন্দেহ নেই। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনে পর্যবেক্ষণ দুঃখজনক-উদ্বেগজনক ও ভীতিকর।

মামলাটি যেহেতু বিচারাধীন, তাই তার (প্রধানমন্ত্রীর) এ ধরনের বক্তব্য বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে বলেও আশঙ্কার কথা জানান রিপন।

তিনি বলেন, ২১ আগস্টের ঘটনা নিঃসন্দেহে ন্যাক্কারজনক, বেদনাজনক ও বর্বরোচিত ঘটনা। বিএনপি সেই বর্বরোচিত ঘটনার এখনও নিন্দা জানাচ্ছে।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই মামলার বিচার শুরু হয়েছে। তদন্তও চলমান ছিল। এখনও আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

রিপন বলেন, এ ধনের বর্বরোচিত ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদের বিচারে আনার জন্য বিএনপির কোনো ভিন্ন মত নেই। কিন্তু ইস্যুটি দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সরকারের এ উদ্যোগ বা প্রচেষ্টা দুঃখজনক।

বিশেষ মহলের উস্কানিতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভাজন সৃষ্টি করছেন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির মুখপাত্র।

রিপন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করার জন্য একটি বিশেষ মহল ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু ওই বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এবং গণতন্ত্র রক্ষা করতে হবে। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান, তিনি যেন বিভেদ, বিরোধ ও দূরত্বের রাজনীতি থেকে বের হয়ে সম্প্রীতির রাজনীতির পথে আসেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘একই বৃন্তে দুটি ফুল’ উল্লেখ করে বিএনপির মুখপাত্র রিপন বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একটি সাইকেলের মতো।

সাইকেল যেমন একটি চাকা ছাড়া চলতে পারে না; তেমনি বিএনপি আওয়ামী লীগ ছাড়া এবং আওয়ামী লীগ বিএনপি ছাড়া চলতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের নেতকর্মীদের উদ্দেশ্যে রিপন বলেন, ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট ও ৩০ মের ঘটনা নিয়ে আমরা একে-অপরকে পাল্টা অভিযোগ করি। ফলে ওই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তারা পার পেয়ে যাচ্ছে।

তাই আমাদের উচিৎ একে-অপরের প্রতি পাল্টা অভিযোগ না করে একত্রিত হয়ে কাজ করা। কারণ পাল্টা অভিযোগের মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিকভাবে কোনো লাভবান হবো না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কবির মুরাদ, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মনির খান, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ এম এ মালেক, ছাত্রদলের সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট প্রমুখ।

এমকে