পুলিশের বিশেষ কোনো দুর্বলতা ছিল কিনা কিংবা যোগসাজশ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা না দেয়া পর্যন্ত আগাম কিছু মন্তব্য করা যাবে না।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় মাতৃভাষা উৎসব উপলক্ষে সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কুতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সার্ক কালচারাল সোসাইটি। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশীয় গণমাধ্যম উন্নয়নের অংশীদার। আমরা কোনো বিষয়েই গণমাধ্যমের উপর হস্তক্ষেপ করি না।
তিনি বলেন, হত্যা খুন বেড়ে যাওয়ার সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জড়িত না। ক্রিমিনাল ধরার সময় যারা নিহত হচ্ছেন তা ইনকাউন্টার বলে প্রচারিত করা হলেও তা আমরা বলছি বন্দুক যুদ্ধ।
মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি আপনার দেখেছেন, দেশে পেট্রোল বোমা মারা হচ্ছে, নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। এসবের তথ্য -উপাত্ত ও ভিডিও ফুটেজ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ছিল। এসব ঘটনার সাথে যারা জড়িত তারা একাধিক মামলার আসামি, হত্যা খুনের সাথে জড়িত। তাদের ধরতে গেলে তারা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। স্থানান্তরিত হচ্ছে।
ক্রিমিনালরা ধরা পড়ার পূর্ব মূহুর্তে র্যা বের সাথে বন্ধুক যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে নিহত হচ্ছে। এটাকে আমরা এনকাউন্টার বলতে পারি না।
কাউকে গুম করা হচ্ছে না দাবি করে মন্ত্রী বলেন, আমরা গুমের রাজনীতি করি না, হত্যার রাজনীতিও আমরা করি না। আমরা সব সময় জবাবদিহিতামূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি।
বিচার বর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের সাথে র্যাযবের সংশ্লিষ্ঠতা থাকার যে অভিযোগ আমেরিকা করেছে সে সম্পর্কে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, আমেরিকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় যে বিবৃতি দিয়েছেন তা ভুল তথ্যের ভিত্তি দিয়েছেন। আমি মনে করি তথ্য হয়তো সত্য নয়। সেখানে সত্য তথ্যের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ক্রসফায়ার নামক যে শব্দের বহুল ব্যবহার ঘটছে এর সাথে র্যা বের কোনো সংশ্লিষ্ঠতা নেই দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ক্রসফায়ার নয় বন্ধুক যুদ্ধ। আমেরিকা র্যা বের হাতে নিহত হবার যে পরিসংখ্যান দিয়েছে তা সত্য মনে করার কোনো প্রশ্নই আসে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে সার্ক কালচারাল সোসাইট’র সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা ধর্মভীরু তবে ধর্মান্ধ নই। আমরা ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ বরদাস্ত করবো না।
আমরা বাংলাদেশকে একটি জঙ্গিবাদ মুক্ত, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করতে একুশের চেতনা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাবো।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ বিপিএম বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি হলো একুশের দাবি। আমরা আমাদের অতীত জঞ্জাল নিরসন করতে একুশের চেতনাকে কাজে লাগাতে চাই।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা বাংলা ভাষা এখন ১৯৩ টি দেশে প্রচলিত। একুশ এখন ভাষার দাবি আদায়ের ভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। আমরা বাংলা ভাষাকে বিকশিত করতে চাই। এক্ষেত্রে একুশের চেতনায় উজ্জীবিত তরুন সমাজের ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অল ইন্ডিয়া সার্ক এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শ্রী চন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মিজান উদ্দিন আহমেদ।
ঢাকা, জেইউ, ২৮ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসআর
রাজনীতি
জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনার তদন্ত হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের বিশেষ কোনো দুর্বলতা ছিল কিনা কিংবা যোগসাজশ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা না দেয়া পর্যন্ত আগাম কিছু মন্তব্য করা যাবে না।





