হাইকোর্ট থেকে ‘নো এরেষ্ট এন্ড নো হ্যারেজ’ নির্দেশনা থাকা সত্বেও ড.মু. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে কারা ফটক থেকে আটক, বিধি বহির্ভূতভাবে গুম করে বিভিন্নভাবে নির্যাতন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আদালতে পাঠানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। ড.মু. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
তিনি বলেন, সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতেই জনগণের উপর দলন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। তারা ৫ জানুয়ারির ভোট ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে জনগণের উপর জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ধবংস করা হয়েছে দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। ফলে দেশে আইন ও সাংবিধানিক শাসনে মারাত্মকভাবে বিগ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। সাংবিধানে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হলেও জনগণকে সকল মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। দেশের আইনের শাসনের পবিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হয়ে একদলীয়, স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসীবাদী শাসন। যা একটি সভ্য ও অধুনিক সমাজের জন্য মোটেই কাঙ্খিত নয়।
তিনি আর বলেন, সরকারের সরকারের নজীবিহীন বিরাজনীতিকরণের ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট থেকে ‘নো এরেষ্ট, নো হ্যারেজ’ নির্দেশনা থাকার পরও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি ড. মু. শফিকুল ইসলাম মাসুদ দীর্ঘ ১৯ মাস কারাভোগের পর গত ২৪ এপ্রিল মুক্তি লাভ করলেও সরকারের নির্দেশে ড. মু. শফিকুল ইসলাম আইনজীবী, আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সাদা পোষাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে নম্বরবিহীন কালো মাইক্রোবাসে টেনেহিচরে তুলে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে গুম করে রাখে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন তা পুরোপুরি অস্বীকার করে। বিষয়টি মূলত রাষ্ট্রীয় মিথ্যাচারের শামিল।
তিনি আরও বলেন, কোন ব্যক্তিকে আটকের পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ড. মাসুদকে কয়েকদিন পর ৮টি মামলায় ওয়ারেন্ট মূলে গ্রেফতার দেখিয়ে আজ আদালতে সোপর্দ করা হয়। কিন্তু উল্লেখিত ৮টি মামলার মধ্যে ৫টিতেই তিনি মহামান্য আদালত থেকে ইতোপূর্বেই জামিনে আছেন। আরও ৩টি মামলায় যে ওয়ারেন্ট মুল্যে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তাও রীতিমত প্রশ্নবিদ্ধ।
কারণ, তিনি ১৯ মাস যাবৎ কারারুদ্ধ থাকলেও পুলিশ তাকে সেসব মামলায় গ্রেফতার দেখায়নি। এদিকে হাইকোর্ট ‘নো এরেষ্ট, নো হ্যারেজ’ বিষয়ক নির্দেশনা থাকার পরও সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে এই উদীয়মান রাজনীতিককে গ্রেফতার করে নিজেদের আদর্শিক দেউলিয়াত্বই প্রমাণ করেছে।
মূলত সরকারের ক্ষমতাকেন্দ্রীয় অপরাজনীতির কারণেই গুম ও খুনের ঘৃণ্য খেলায় মেতে উঠেছে। ফলে গোটা দেশই গুম ও খুনের জনপদে পরিণত হয়েছে। কিন্তু জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে অতীতে কোন আদর্শকে নির্মূল ও ধ্বংস করা যায়নি, আর কখনো যাবেও না।
তিনি ড. মাসুদকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ, তার বিরুদ্ধে আনীত সকল ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
এমই





