অবৈধভাবে সংসদ সদস্য হয়ে বর্তমান সংসদে অকথ্য ভাষায় নিম্নমানের বক্তব্য দেয়া হচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেছেন, সংসদ কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ বা চরিত্র হনন করার জন্য নয়। সংসদ জাতীয় সমস্যা নিয়ে কথা বলার জায়গা।
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে মাহমুদুর রহমান মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত ‘দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের কারাবন্দীর এক বছর পূর্ণ হওয়ার প্রতিবাদে এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি’তে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, তারেক রহমান লন্ডনের একটি সেমিনারে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জবাব থাকলে আপনারা দিবেন। কিন্তু আপনারা তা না করে তার (তারেক রহমানের) জন্ম নিয়ে ‘তুই-তোকারী’ করে সিনিয়র নেতারা সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন। তা অসম্মানজনক। প্রিভিলেইজ আছে বলেই যে কোনো কথাই আপনারা বলতে পারেন না।
ব্যারিস্টার রফিক বলেন, প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রীমকোর্টের কাছে প্রশ্ন, মাহমুদুর রহমানকে জেলে দিয়ে, তাকে রিভিউ করার সুযোগ না দিয়ে আপনারা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন কি-না এবং এই প্রশ্ন তোলায় আমার বিরুদ্ধে কোর্ট অব কনটেম্পট হবে কি-না?’
রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘মাহমুদুর রহমানকে ৬ মাসের জেল দেয়া হয়েছিল। তার ৬ মাস জেল খাটা শেষ হওয়ার পর, ৬ মাসের জেলের রায় দেয়া হয়েছিল। এতে তিনি রিভিউর সুযোগ পাননি।’
তিনি বলেন, ‘মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ৬০/৭০টা হয়রানিমূলক মামলা আছে। বিচার বিভাগের কী সুযোগ নেই মামলাগুলোর গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করার? কারণ কোর্টের ইনহ্যারেন্ট পাওয়ার টু ডু জাস্টিস আছে। কিন্তু মাহমুদুর রহমান সত্য ন্যায় বললেও কোর্ট এই ক্ষমতাটা অনুসরণ করেনি।’
তিনি বলেন, ‘মাহমুদুর রহমানের স্কাইপি কথোপকথন প্রকাশ করা যদি মিথ্যা হতো তাহলে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান কেন পদত্যাগ করলেন এবং বর্তমানে তিনি উচ্চ আদালতে দায়িত্ব পালন করছেন।’
বিচার বিভাগ স্বাধীন কি-না এমন প্রশ্ন রেখে সুপ্রীমকোর্টের এই আইনজীবী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির কাছে আহ্বান, বিচার বিভাগ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল, ন্যায় বিচারের স্থল। এই জায়গাটা যেন নষ্ট না হয়। তাহলে দেশে সুশাসন থাকবে না।’
সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক এবিএম মূসা প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘এবিএম মূসা আওয়ামী লীগের এমপি হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কয়েকটি সত্য কথা বলার কারণে আওয়ামী লীগের নেতারা তাকে অসম্মান করেছে।’
তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানের মতো পপুলার নেতা ছাড়া স্বাধীনতা হতো কি-না সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। স্বাধীনতার ঘোষণাটা আওয়ামী লীগের মুখ থেকে আসা উচিত ছিল। কিন্তু সেটা আসেনি। বরং আওয়ামী লীগের নেতারা স্বীকার করেছেন জিয়াউর রহমানের মুখ থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছে।’
রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘আমরা কারো অবদান অস্বীকার করতে চাই না।  কিন্তু যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়া নামেমাত্র মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন’- সেখানে অনেক ইতিহাস বাধ্য হয়ে বের হয়ে আসছে।
সংগঠনের সভাপতি মো. রেজাউল কবির সিকদার রেজা সভাপতিত্বে  আরও বক্তব্য রাখেন, সম্মিলিত পেশাবজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন সুলতানা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ প্রমুখ।
[b]ঢাকা, এমএইচ, ১১এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)//এএইচ[/b] [b]// জেআই[/b]