দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটকে আদর্শের লড়াই অ্যাখায়িত করে নৌপরিবহণমন্ত্রী শাহজাহান খান বলেছেন, ‘জয়-পরাজয়ের মধ্য দিয়েই বর্তমান সংকটের সমাধান হবে।

শনিবার রাতে রাজধানীর বিয়াম অডিটোরিয়ামে বিবিসি-বাংলাদেশ সংলাপে প্যানেল বক্তা হিসেবে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

সংলাপ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান খান বলেন, ‘কিসের সংলাপ, কার সাথে সংলাপ হবে। আদর্শের লড়াইয়ে কোনো সংলাপ হবে না। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির সাথে কোনো সংলাপ হবে না।’

এ বিষয়ে অপর প্যানেল আলোচক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সংলাপ হচ্ছে গণতন্ত্রের ভাষা। বর্তমান সংকট সমাধানে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।সংলাপের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, তারা সংঘাতকে উস্কে দিচ্ছেন। কারণ সংলাপের বিপরীত হলো সংঘাত।’

দর্শকদের এক প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান জানান, খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের পরিকল্পনা নেই। তাকে সাবধান করার জন্যই গ্রেফতারের কথা বলা হচ্ছে।

প্রশ্নের জবাবে প্যানেলের অপর সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করলে সেটা হবে সরকারের হঠকারি সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে দেশকে কঠিন খাদের শেষ প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হবে। আমরা আশা করি সরকার এমন ভুল করবে না।’

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘সহিংসতা কারা করছে তা তদন্ত করে বের করা উচিত।’

‘মানুষের জন্য সংগঠন’ এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের গ্রাউন্ড তৈরি করা হচ্ছে।’

সহিংসতাকে উসকে দেয় এমন খবর প্রচার না করার জন্য বেসরকারি টেলিভিশনকে সরকার যে পরামর্শ দিয়েছে, তাকে গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে কি, এ প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যার মতোই গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

অপরদিকে শাহজাহান খান বলেন, ‘আমরা পরামর্শ দিয়েছি, গণমাধ্যমকে কোনো প্রকার চাপ দেওয়া হয়নি।’

সারা হোসেন বলেন, ‘অবশ্যই এটা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। এটা কারো কাম্য হতে পারে না।’

শাহীন আনাম বলেন, ‘এটা হস্তক্ষেপ এবং এসব সংবাদ প্রকাশ করা মানেই সহিংসতাকে উসকে দেওয়া নয়।’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সংলাপের বিষয়ে জনমত যাচাই করতে সংলাপের পক্ষে-বিপক্ষে উপস্থিত দর্শকদেরকে হাত তুলতে বলা হলে মাত্র ছয়জন দর্শক সংলাপের বিপক্ষে ভোট দেন। যা উপস্থিত দর্শকদের মাত্র এক শতাংশ।

ইআর