দেশব্যাপী হঠাৎ কেনো মাদকবিরোধী অভিযান? এমন প্রশ্ন তুলে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের চেষ্টা চলছে।
চলছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। এর পেছনে সরকারের দূরভিসন্ধি রয়েছে। এই অভিযানে প্রতিটি হত্যার জন্য বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন তিনি। আজ বুধবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন বন্ধ এবং মাহমুদুর রহমান ও শওকত মাহমুদ সহ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা সন্ত্রাসের প্রতিবাদ’ শীর্ষক যৌথভাবে এই সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।
প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে নির্যাতন নিপীড়ন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। কারণ এই সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই। এই সরকার একদলীয় এবং ভোটারবিহীন অবৈধ সরকার। এজন্যই সাংবাদিকদের ওপর বেশি নির্যাতন। কারণ তারা জনগণের মনের কথাগুলো লেখে এবং কিছুটা হলেও বলে।
আমি বলব- এসব নির্যাতন বন্ধ করতে হলে আমাদেরকে কঠিন আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমেই সভ্যতা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। আজকে সরকার বলছে উন্নয়শীল দেশের কথা। কিন্তু সভ্যতা, মূল্যবোধ, গণতন্ত্র ও সুশাসন না থাকলে উন্নয়শীল বলাটা অর্থহীন।
বেগম জিয়ার কারাবন্দি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করেছে।
উচ্চ আদালত জামিন দিলেও নিম্ন আদালত জামিন দিচ্ছে না। তারা সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ সত্যিকারার্থে আর নেই। মাসদার হোসেন মামলার কার্যকারিতাও নেই।
মওদুদ আহমদ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, আপনারা খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্বিত করতে পারেন। কিন্তু তিনি মুক্তি পাবেন। আমাদের দলের নেতৃত্ব দেবেন। বিএনপি বেগম জিয়ার নেতৃত্বেই আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে এবং বাংলাদেশে আগামী দিনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে ইনশাল্লাহ।
বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা প্রত্যাশা করি আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে। বিশেষ করে গ্রামের ভোটারেরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন নি:সঙ্কোচে। কোনো সমস্যা থাকবেনা। এরবাইরে কোনো নির্বাচন জনগণ মানবেনা, হতেও দিবেনা।
তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে এখন পর্যন্ত যারা ক্রসফায়ারে মারা গেছে তাদের ৮০ থেকে ৯০ ভাগ মাদকের সাথে জড়িত নয়। ৭৯ জনের যে তালিকা করা হয়েছিল তাদের তো কেউ ধরা পড়েনি। অন্যদিকে কক্সবাজারের বদিকে বিদেশ যেতে সহায়তা করা হলো!
‘বিএনপির মাদকব্যবসায়ীদের খোঁজা হচ্ছে’ আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মওদুদ আহমদ বলেন, তাহলে এতদিন যাদের ধরলেন আর মারলেন তারা কি আওয়ামী লীগের লোক? আসলে আমরা যে আশঙ্কা করেছিলাম এই অভিযানের বিরুদ্ধে দূরভিসন্ধি রয়েছে।
মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমান দখলদার সরকারের আমলে অসংখ্য সাংবাদিক মিথ্যা মামলার শিকার। প্রবীণ সাংবাদিক ও সম্পাদক শফিক রেহমান, আবুল আসাদকেও কারাগারে নিয়েছে তারা। মামলা হয়েছে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধেও। আর এক শ্রেণির সাংবাদিক-সম্পাদক দখলদার প্রধানমন্ত্রীর তেলবাজিতে ব্যস্ত। মনে হয় আমরা কাল্পনিক সেই ‘বিগ্র ব্রাদার’ রাষ্ট্রে বাস করছি।
তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের মাধ্যমে সরকার ভিন্ন মত দলন করতে চায়। এসব হত্যাকা-ের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়ী। এই অন্যায় থেকে মুক্তির জন্য সকলকে আন্দোলনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। শওকত মাহমুদ বলেন, আজকে একটি দল বাংলাদেশের মালিকানা দাবি করছে। বর্তমান সরকার অনির্বাচিত। তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয়। অথচন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হলে আবারো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার হবে। আমাদেরকে জনগণের মুক্তির জন্য গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে হবে। আইন করে মুক্ত চিন্তা ও বাকস্বাধীনতা বন্ধ করা যাবেনা বলে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন।
এম আব্দুল্লাহ বলেন, বর্তমান অনির্বাচিত সরকার মানুষ খুন আর মামলা সন্ত্রাস করছে। যার প্রমাণ মিথ্যা মামলায় বন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। অনেক গণমাধ্যমকে বন্ধ করে দিয়েছে। দেশের আজ দুবির্ষহ অবস্থা। হামলা-মামলা, হত্যা-সন্ত্রাস বন্ধ এবং বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে রুহুল আমিন গাজী আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বন্ধ সকল মিডিয়া খুলে দেয়া, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সকল মামলা প্রত্যাহার, গোয়েন্দা খবরদারি বন্ধ এবং নিবর্তনমূলক আইন বন্ধের দাবি জানান। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এএস





