বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রশাসন একেবারে দলীয়করণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দলীয়করণ, বিচার ব্যবস্থাকে সরকার নিয়ন্ত্রণে নেয়ার প্রতি মুহুর্তে চেষ্টা করছে। ফলে গোটা রাষ্ট্র যন্ত্রটাই ভেঙ্গে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মনে হয়, আমরা যখন অকার্যকর রাষ্ট্রের কথা বলি আজকে বাংলাদেশ অকার্যকর রাষ্ট্রের দিকে চলে গেছে। এই অবস্থার মধ্যে আমরা কী করবো? আমরা মানুষের মাঝে আছি, আমরা মানুষের রাজনীতি করি, বাংলাদেশের জনগণের রাজনীতিই আমাদের রাজনীতি। আমরা কখনো পরাজিত হই নাই। খারাপ সময় এসেছে, আমরা নিচের দিকে গেছি, সঙ্কট এসছে কিন্তু সেই সঙ্কট থেকে আমরা ফিনিক্স পাখির মতোই জেগে উঠেছি। এটা বাস্তবতা, এটা আমি বাড়িয়ে বলছি না।
শনিবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ভাসানী অনুসারী পরিষদের উদ্যোগে মরহুম কাজী জাফর আহমদের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।
সংগঠনের সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক কাজী নজরুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নঈম জাহাঙ্গীর, বিএনপির শামসুজ্জামান দুদু, জহির উদ্দিন স্বপন, পিপলস পার্টির রিটা রহমান, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সুলতান আলম মল্লিক, শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল, শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান যে রাজনীতি এখানে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের যে রাজনীতি, গণমানুষের যে রাজনীতি; সে রাজনীতির পতাকা বেগম খালেদা জিয়া তুলে নিয়ে বেড়িয়েছেন দীর্ঘকাল এবং কারাগারে রয়েছেন ওই রাজনীতি জন্যে। সেই রাজনীতি হচ্ছে আমাদের রাজনীতি। আমরা আমাদের এই রাজনীতিকে যদি সঠিক পথে নিতে পারি, যদি নিয়ে যেতে সক্ষম হই, আমরা যদি আরো বৃহত্তর ঐক্য সৃষ্টি করতে পারি, আজকে শুধু জাতীয় পার্টি নয়, অন্যান্য সমস্ত দেশপ্রেমিক দলগুলোকে যদি এক করতে পারি তাহলে অবশ্যই বিজয় আমাদের আসবেই আসবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, চরম সঙ্কটময় মুহুর্ত চলছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এতো সঙ্কটময় মুহুর্ত কখনো এসেছিলো বলে আমার কাছে মনে হয় না। আমাদের সমস্ত অর্জনগুলো যা আমরা রক্ত দিয়ে একাত্তর সালে যুদ্ধ করে, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে অর্জন করেছি সমস্ত অর্জনগুলো ধবংস করে দেয়া হয়েছে। এখন গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতাসীনেরা একেবারেই মিথ্যা কথা বলেন।
তিনি বলেন, জনগণের সাথে তাদের কোনো সম্পর্কই নেই, বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে অশনি সঙ্কেত। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন তিনি জানেনই না ডেঙ্গুতে কত জন মারা গেছে? আপনি যদি মফস্বল, থানা কমপ্লেক্সে যান মনে হবে না এদেশে কোনো সরকার আছে! হাসপাতালগুলো নোংরা, ভেঙে পড়ছে, খসে পড়ছে সেই জায়গায় কোনো মতে রোগীরা বিছানা নিয়ে আছে।
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ব্যাঙের ছাতার মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাঙের ছাতার মতো মেডিকেল কলেজ। কোথায় কি হচ্ছে, কার পলিসি জানিনা আমরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর আছেন তার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড কি আমরা সবাই দেখি-এটা আমরা চিন্তুাও করতে পারি না। এই সমস্ত লোকেরা আমাদের শিক্ষার গুরু হয়েছেন। কথা শুনলে মনে হয় না কোনো কোনোরকমের শিক্ষা-সংস্কৃতি তাদের মধ্যে রয়েছে।
রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট ভয়াবহ। এর ভবিষ্যত কী? এটা বলা বড় মুশকিল। তার পরে আমি যেটা আঁচ করছি বা আামি বুঝতে পারছি যে, এই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে এবং না করতে পেরে যা করে। যে যা কিছু হারায় গিন্নী বলে কেস্টা বেটাই চোর। আমরাই নাকী দায়ী এটা না হওয়ার কারণে। আমরা যদি কথা না বলতাম তাহলে নাকী তারা অনেক আগেই চলে যেতো।
তিনি বলেন, আপনারা যাওয়ার জন্য এতটুকু ব্যবস্থা করতে পারেন নাই, যারা নেয়ার ব্যবস্থা করবে তাদের সঙ্গেই তো আন্ডারস্ট্যাডিং করতে পারেন নাই, আপনারা কোনো আন্তর্জাতিক আবহাওয়া তৈরি করতে পারেন নাই যে আন্তর্জাতিক কোনো চাপ মিয়ানমারেরে উপরে পড়ে তারা রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাবে। উপরন্তু যারা চাপ দেবে তারা সব মিয়ানমারের পক্ষে। এমনকি যে আমেরিকার বিরুদ্ধে এতো কথা বলছিলো সেই আমেরিকার একজন কংগ্রেসম্যান বলছেন যে, এখন মিয়ানমারের ভেতরে যে আইন আছে, সেই আইনেই এই অপরাধগুলোর বিচার হওয়া উচিত। কোথায় নিয়ে যাচ্ছি আমরা?
সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বলেছি- রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটা জাতীয় কনভেনশন ডাকা হোক। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে এক করে বাংলাদেশ যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একমত এটাকে প্রকাশ করা হোক। তাহলে মিয়ানমারকে পরাজিত করতে পারবেন। না ওটা তাদের ভালো লাগে না। কারণ কখনোই জাতীয় ঐক্যে বিশ্বাস করে না।
অবিলম্বে নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিও জানান বিএনপি মহাসচিব।
এমবি





