মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাসিঁর রায় কার্যকর হওয়া মীর কাসেম আলী শেষ সময় গুলোতে নামাজ আর কোরআন তেলাওয়াত করেই নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলেন।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর ৪০ নম্বর সেলে (কনডেম সেল) থাকা কালে তাকে বেশীর ভাগ সময় স্বাভাবিকই দেখা গেছে। তবে বিকালে পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করার সময় নিখোঁজ ছেলের বিষয়টি জানতে চেয়ে আবেগে চোখের পানি ঝরান বলে নিশ্চিত করেছে কারাসূত্র।

সূত্র আরও বলছে, স্বজনদের কাছে বার বার তার নিখোঁজ ছেলের বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন তিনি।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর জেলার নাসির উদ্দীন জানান, মীর কাসেম আলীকে কারা বিধি অনুযায়ী সব সুবিধা দেওয়া হয়েছে। মীর কাসেম শারীরিকভাবে যথেষ্ট সুস্থ ছিলেন।

কারাসূত্র বলছে, বিকাল ৪টা ১৫ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ৩৮ জন স্বজন মীর কাসেমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২-এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, বিকালে ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের সাক্ষাৎপর্বে মীর কাসেমের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন তার পরিবারের সদস্যসহ ৩৮ স্বজন। অবশ্য কারাগারের ভিতরে সাক্ষাতের উদ্দেশে ঢুকেছিলেন তিন শিশুসহ তার পরিবারের ৪৭ জন সদস্য। স্বজনদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ৮-১০ জনের গ্রুপ করে তাদের সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়। কারাগার থেকে বের হয়ে মীর কাসেমের স্ত্রী সৈয়দা আয়েশা খানম বলেন, উনি (মীর কাসেম আলী) বলেছেন, ‘শেষ মুহূর্তে ছেলেকে দেখতে পারলাম না— এই আক্ষেপ রয়ে গেল। ছেলে আমার পরিবারে ফিরে আসবে এ প্রত্যাশাই করি।

আয়েশা খানম আরও জানান, উনি (মীর কাসেম আলী) বলেছেন, ‘আমি জান্নাতে যাব। আমি আগে গিয়ে তোমাদের জন্য অপেক্ষা করব। তোমরা কান্নাকাটি করো না। যারা মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে মৃত্যুর মুখোমুখি করেছে তারা কখনই জয়ী হবে না। একদিন এই দেশে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠা হবেই এবং ইসলামই জয়ী হবে।

উল্লেখ্য, মীর কাসেম আলী ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জামায়াতের নির্বাহি পরিষদ সদস্য ছিলেন। মানবতাবিরোধী আপরাদের মামলায় গতকাল রাত ১০.৩০মিনিটে কাশিমপুর কারাগারে তার ফাঁসির রায় কার্যকর করে কারা কতৃপক্ষ।

এম এ