বিএনপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ওমরা পালনে সৌদি যাচ্ছেন না। বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
ড. রিপন বলেন, প্রতি বছর সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে বিএনপি চেয়ারপারসন ওমরাহ করতে গেলেও এবার তিনি যাচ্ছেন না। অবশ্য ঈদের পর সুবিধাজনক সময়ে তিনি ওমরাহ করতে সৌদি যাবেন। সৌদী দূতাবাস খালেদা জিয়াকে ভিসা দেয়নি মর্মে গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রচার হচ্ছে তা সঠিক নয় বলেও দাবী করেন তিনি।
‘ওমরা পালন আমাদের চেয়ারপারসনের একান্তই ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় বিষয়। এ নিয়ে আমরা আসলে কিছু বলতেও আগ্রহী নই। আসলে বিষয়টি নিয়ে আমরা তেমন কিছু জ্ঞাতও নই। তবে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা রকম সংবাদ পরিবেশন হওয়াতে আমরা এ ব্যাখ্যা দিচ্ছি,’ যোগ করেন রিপন।
জাতীয় সংসদে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিপন বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার পিতার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর জিয়াউর রহমান তাকে দেশে ফিরতে বাধা সৃষ্টি করেছেন।
শেখ হাসিনার এমন বক্তব্য অসত্য। বরং জিয়াউর রহমান তাকে দেশে ফিরে এসে রাজনীতি করার ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তখন আওয়ামী লীগের নেতারা শেখ হাসিনাকে দেশে আনার জন্য ঘন ঘন ভারত গেছেন। জিয়াউর রহমানই এ সুযোগ করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন। তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিয়ে কোনো দলকে দমন বা কোনঠাসা করার পক্ষপাতি ছিলেন না। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে শেখ মুজিবের বিলুপ্ত করা বহু ধারায় বিভক্ত আওয়ামী লীগকে পুনর্জীবনদান ও নতুন করে রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানোর পরিবর্তে শেখ হাসিনা বিনাভোটের সংসদে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে অসত্য তথ্য ও কুৎসা রটনা করছেন। এ অসত্য তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
বিএনপির মুখপাত্র আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সার্বজনীন জাতীয় সংসদ না হলেও সেখানে অনুপস্থিত আমাদের দলের চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী নানান মানহানিকর বক্তব্য রেখে যাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, তার ভাগ্নি টিউলিপ ব্রিটিশ সংসদে যাতে নির্বাচিত হতে না পারে সেজন্য নাকি তারেক রহমান সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। শেখ হাসিনার ভাষায় এটা ‘খালেদার ছেলে তারেক সব রকম চেষ্টা করেছে।’
তিনি বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদের রাজনীতি করেন। তিনি বিএনপির রাজনীতি করেন। তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন। সেখানে কোন ব্রিটিশ নাগরিক পার্লামেন্টে নির্বাচিত হবে, কে হাউজের ডেপুটি লিডার হবে তা নিয়ে তারেকের ভাবার কোনো অবকাশ নেই। এতে তার নাকগলানোও সম্ভব না। এসব তিনি করেনও না। তিনি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়ন ও বিএনপি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর এ অভিযোগ শুধু অসত্যই নয়, রীতিমত হাস্যকরও, বলেন রিপন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদ, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন ও কেন্দ্রীয় নেতা সেলিম রেজা হাবিব।
এমএইচ/এআই





