দেশের প্রতিটি মানুষ আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (১০ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিস আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কেবল নাস্তিক আর ব্লগাররা নন, ধর্মে বিশ্বাসী মানুষগুলোও আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যারা ধর্মে বিশ্বাস করেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন, তারাও আজ গুপ্ত হত্যার শিকার হচ্ছেন। কোনো ধর্মের মানুষই আজ নিরাপদ নয়।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ব্লগার হত্যার পর যারা এর দায় ইসলামী জঙ্গিদের ওপর চাপিয়ে দেন, ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী ধর্মগুরু হত্যার পর এর দায় কাদের ওপর চাপাবেন তারা?
সরকার আলেম-ওলামাদের ওপর খড়গ হয়েছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ক্ষমতায় আসার পর পরই এই সরকার আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, গ্রেফতার করেছে সর্বপরি চরম শাস্তির ব্যবস্থা করেছে।
ভিন্ন মতের মানুষদের সরকার সহ্য করতে পারছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ফখরুল বলেন, যারাই এই সরকারের বিরোধিতা করছে, তাদের ওপরেই নেমে আসছে ভয়াবহ নির্যাতন। সাংবাদিক শফিক রেহমন, মাহমুদুর রহমান শওকত মাহমুদ কেবল সত্য কথা বলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটকে আছেন।
খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা জোবায়ের আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন দলটির মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাগপার সভাপতি শফউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) সভাপতি খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ মুসলীম লীগের চেয়ারম্যান এইচ এম কারুজ্জামান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনপিপির সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) সহ-সভাপতি আহসান হাবীব লিংকন, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহদে মণি, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ, কল্যাণ পার্টির যুগ্ম মহাসচিব নুরুল কবির ভূইয়া, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান পেশয়ারি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।
আজ সকালে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক কমিটির সভায় গৃহীত প্রস্তাবে ধারাবাহিক ‘টার্গেট কিলিং’ এর রোমহর্ষক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানানো হয়েছে এবং বলা হয়েছে রাজনৈতিক ‘ব্লেইম গেম’ এর কারণে প্রকৃত ঘাতক ধরা-ছোয়ার বাইরে থাকছে এবং নতুন নতুন হত্যাকাণ্ড ও অপরাধ সংঘটনে তারা আরো উৎসাহিত হচ্ছে।
প্রস্তাবে বলা হয় খুনী ও দাগি সন্ত্রাসীদের ধরার চেয়ে প্রতিটি ঘটনা থেকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের অপকৌশলের কারণে সন্ত্রাসীরা ক্রমে বেপরোয়া হয়ে উঠছে; মানুষের জানমালের নিরাপত্তা গুরুতর হুমকির মুখে।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তের আগেই যখন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ রাজনৈতিকভাবে দোষারোপ শুরু করেন তখন গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করার সুযোগ থাকে না। দোষারোপের এই রাজনীতির কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার পেশাদারিত্বও মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়।
প্রস্তাবে রাজনৈতিক সুবিধা নেবার দোষারোপের অপকৌশল পরিহার করে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘাতকদের চিহ্নিত, গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবে বর্তমান পরিস্থিতি উত্তরণে রাজনৈতিক দল ও জনগণকে আস্থায় নিয়ে কার্যকরী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেবার জন্যেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সেগুনবাগিচায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালযে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এর সভাপতিত্বে এই সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, মুকলেছুর রহমান, আবু হাসান টিপু ও আনসার আলী দুলাল।
সভায় গৃহীত অপর এক প্রস্তাবে রোজার অজুহাতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতেও সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।
এমআর





